
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের মারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ঈদ আনন্দ মেলাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মেলা আয়োজনের অনুমতি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রোববার (৩১ মে) বিকেলের দিকে মেলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
আয়োজকদের দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই প্রতিবছরের মতো এবারও মেলার আয়োজন করেছেন। তবে স্থানীয় একটি পক্ষের অভিযোগ, প্রশাসনের লিখিত অনুমোদন ছাড়াই মেলা বসানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে মেলায় বেচাকেনা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকলেও বিকেলের দিকে মেলা আয়োজনের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে মেলার কার্যক্রম ভণ্ডুল হয়ে যায়। এ সময় দোকানদারদের নিজ উদ্যোগে দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
ক্ষতিগ্ৰস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোকান সাজিয়ে কেবল বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ঠিক সেই সময় তাদের দোকান অপসারণ করায় অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে।
মেলা কমিটির সদস্য ও আমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি খবির উদ্দিন অভিযোগ করেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এবং প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে মেলায় প্রবেশ করে দোকানদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে তারা দোকানপাট গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তমেজ উদ্দিন হাজী বলেন, ওই স্থানে আগামী সপ্তাহে ইজারাভিত্তিক একটি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে এ মেলার আয়োজন করেছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান বলেন, স্থানীয় উদ্যোগে মারিয়া স্কুল মাঠে একটি ঈদ আনন্দ মেলা আয়োজনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে মেলা ভেঙে দেওয়া বা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




