বৃহস্পতিবার১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
Home / সাক্ষাতকার / হে তরুণ ! আগামীর বাংলাদেশ। শোন…

হে তরুণ ! আগামীর বাংলাদেশ। শোন…

।। ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী।। 
সাধকতুল্য রাজনীতিক ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ‘প্রথমে তারা তোমাকে উপেক্ষা করবে, এরপর উপহাস করবে, তারপর তারা তোমাকে আক্রমণ করবে এবং এরপরই তুমি বিজয়ী হবে’।
বড় হওয়ার সাধনায় যদি তুমি তোমার জীবনকে উৎসর্গই না করো তাহলে পুরো জীবনটাই উপেক্ষার মধ্যে ব্রেকেট বন্দীই থাকবে। কারণ যা অযোগ্য তা অমনোযোগ্য। যোগ্যরাই আলোচিত সমালোচিত মনোযোগ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অযোগ্যরা নয়।
যোগ্য হতে আত্মশক্তির জাগরণ ঘটাতে হবে। মনে রাখবে, তুমি ঘুমিয়ে থাকলে তোমার ভাগ্যও ঘুমিয়ে থাকবে। হাতের রেখায় ভাগ্য থাকে না, ভাগ্য থাকে মানুষের কর্মে। যাদের হাত নেই তাদের কী ভাগ্য নেই?
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, ‘যে জাতি নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে নিজেই চেষ্টা করে না, আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করে না। (সূরা রা’দ, আয়াতঃ ১১)
সফলতা কারো দরজায় খড়া নাড়ে, এটিকে আমরা ভাগ্য বলি। আর সফলতাকে কেউ ডেকে আনতে হয়। তার নাম ‘সাধনা’। সাধনায় সফলতা আসবেই। কিন্তু সাধনায় সাধক মন প্রয়োজন। ঘষা খেতে যদি ভয় পাও চকচক করবে কী করে?
জীবনের বাঁকে বাঁকে দাড়িয়ে থাকে বাধা। যে যৌবন এগিয়ে যাওয়ার সে জীবন বাধা মানে না।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ জে পি আবদুল কালাম বলে গেছেন, ‘জীবনে কঠিন বাধাসমূহ আসে তোমাকে ধ্বংস করতে নয়, আসে তোমার ভেতরে লুকানো অমিতশক্তি সম্ভাবণাকে অনুধাবণ করতে।বাধা সমূহকে দেখাও তুমিও কম কঠিন নাও। সূর্যের মতো দীপ্তিমান হতে হলে প্রথমে সূর্যের মতো পুড়তে হবে’।
সফলতার জন্য ঝুঁকি নিতে হয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘জীবনে ঝুঁকি নাও, জিতলে নেতৃত্ব দিবে, হারলে পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাবে’।
হে তরুণ! তারুণ্য থাকতেই সময়কে গুরুত্ব দাও। সময়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি করতে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে সময়ের শপথ গ্রহণ করেন।
একটি ধাঁধা জেনে রাখো। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যায় না, ধার করা যায় না, টাকা দিয়ে কেনা যায় না, জমাও রাখা যায় না, তার নাম কী? তার নাম ‘সময়’। সময়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সময় তারুণ্য।
একহাজার টাকার নোট পেলে আনন্দিত হই কিন্তু ‘সময়’ নামক কোটি টাকার সম্পদ তরুণ বয়সে অনাদরে অবহেলায় নষ্ট করছি। অথচ এই সময়কে ব্যবহার করে দুনিয়ার সেরা মানুষ হওয়া যায়।
মানুষ এক আজব প্রাণী। যার অর্ধেক জীবন চলে যায় পরচর্চায়, তাই বাকি জীবন অসম্পূর্ণ রেখে চলে যেতে হয়।তরুণরা যৌবন আর জীবনের অর্থ বুঝতে অক্ষম।
ফারসি ভাষার সেরা কবি শেখ সাদী (রহঃ) তরুণদের উদ্দেশ্য বলেছেন,’হে তরুণ! এখনই সৎ কর্ম ধর।কারণ বৃদ্ধ কাল আসলে তারুণ্য ফিরে পাবে না’।
বাজারে গেলেই বুঝা যায় যৌবনের মূল্য কত। একটি ডাবের দাম ৬০ টাকা আর নারিকেলের দাম মাত্র ২৫ টাকা।
দুনিয়াটা তিনদিনের। একদিন গতকাল। তা বিদায় নিলো। আগামীকাল বেচে থাকবো কিনা নিশ্চিত নই। শুধু আজকের দিনটিই গুরুত্বপূর্ণ সময়। বর্তমান সময়টিকে অবহেলা করলে একদিন সময় চরম প্রতিশোধ গ্রহণ করবে।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী আবদুল কালাম মহামান্য রাষ্ট্রপতি আসনে বসতেন কম সময়। অধিকাংশ সময় কাটাতেন তরুণদের মাঝে। তার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘তরুণদের মাঝে সময় উৎসর্গের চেয়ে রাষ্ট্রপতির আসনে সময় কাটানো আমার নিকট গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ যেখানে রয়েছে আগামীর ভারত শাসক, বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র,দার্শনিক, কবি, সাহিত্যিক, উদ্দোক্তা, আমলা। এঁরা দাড়ালে ভারত দাড়াবে’।
আমরা এখন জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ‘তারুণ্য’হারা যুবক। এখন আমাদের জীবনের সেরা সময় হলো যে সময় তরুণদের উদ্দেশ্য কথামালায় উৎসর্গ করি। তাদের জন্য যা লিখি তা আমার সেরা লেখা।
হাজার বছরের উচ্চারিত এক কথা, ‘সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’। আধুনিককালে নদীর স্রোত নয়, সাগরের স্রোতও কিছুটা বন্ধ করা যায় (যেমন সমুদ্রে বাঁধ নির্মাণ করে নেদারল্যাণ্ড রাষ্ট্র গঠন করে)। নদীর স্রোত ও সাগরের স্রোত আটকানো গেলেও সময়কে নয়। সময় বয়ে যাবেই।
হে তরুণ! তোমাকে কোন শক্তিই আটকাতে পারবে না, যদি তুমি নিজকে না আটকাও। সময়কে অসম্মান করো না। সময়ের কাজকে ভালবাসো, যদি চাও সফলতা।
আবারো এ পি জে আবদুল কালামের কথা উল্লেখ করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। তিনি বলেছেন,’তুমি যদি তোমার কাজকে স্যালুট করো, কাউকে তুমি স্যালুট করতে হবে না,যদি অসম্মান অমর্যাদা করো তাহলে সবাইকে স্যালুট করতে হবে’।
সাধনার ফল তোমাকে খুঁজতে হবে না, তার সুফল তোমার পিছনেই ঘুরবে।
হে তরুণ! তোমার তারুণ্য আগুন। বিধি বাধা মানে না। তারুণ্যহারা বিজ্ঞানীরা মহাকাশ বিজয়ের গবেষণা করেছেন,কিন্তু চন্দ্র বিজয়ে রাজি হননি। চাঁদে গেলে ফিরে আসবে কিনা, সুস্থ থাকবে কিনা? এ ধরনের জীবনের হিসেব মেলাতে যখন ব্যস্থ তখনই সাহসী তরুণ চন্দ্র বিজয় করে ইতিহাসে অমর স্থান গ্রহণ করে নেন।
তরুণদের স্থিতাবস্থা পছন্দ নয়, পরিবর্তন চায়। ৮০ ভাগ তরুণ মুক্তিযুদ্ধের ফসল আজকের বাংলাদেশ। আজকের তরুণ আগামীর বাংলাদেশ। তোমরা দাঁড়ালে বাংলাদেশ দাঁড়াবে। তোমাদের প্রিয় বাবা যদি হয় ইয়াবা, সন্ত্রাসী হয় যদি বড় ভাই তাহলে বাংলাদেশ দাঁড়াবে কী করে?
আগে তরুণদের পকেটে চকলেট চুইংগাম কবিতার পঙক্তি শোভা পেত, এখন সে পকেটে ইয়াবা কেন? দেখছি, অনেক তরুণ ইয়াবা খেতে খেতে হাত কাপছে। সত্তর বছর বয়স্ক লোকেরও তো হাত কাপে না।
এ ভাবে তোমাদের হাত কাপতে থাকলে আগামীর বাংলাদেশ এগুবে কী করে?