বৃহস্পতিবার১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
Home / অপরাধ / ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক চেয়ে স্ত্রী ও ৮ বছর’র শিশুকে ঘর থেকে বের করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

১০ লক্ষ টাকা যৌতুক চেয়ে স্ত্রী ও ৮ বছর’র শিশুকে ঘর থেকে বের করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি  : এমন নির্যাতনের কথা বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া থানার সরফভাটা এলাকার মৌলনা গ্রাম মায়ার বর বাড়ী এলাকার মাহাম্মদ জালাল উদ্দিনের স্ত্রী নাজেহাদ ফারজানা (২৭)।
২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নাজেহাদ ফারজানা এমন অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা বলেন, ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য প্রায় সময় আমার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালাত। ওই নির্যাতনের শিকার থেকে বাদ যায়নি আমার আট বছর বয়সের শিশু সন্তান জিহাদও। ঘরের মধ্যে তালা লাগিয়ে দিয়ে না খেয়ে উপোস রাখতো আমাদের।  বদ্ধ ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়ে হত্যার চেস্টাও করেছে বেশ কয়েকবার। পরে আমাকে স্বামীর বাড়ি থেকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় তারা।
তিনি বলেন, ২০১১ সালের ২৮ অক্টোবর রাঙ্গুনিয়া থানার সরফভাটা এলাকার মৌলনা গ্রাম মায়ার বর বাড়ী এলাকার আহম্মদ মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের (৩৪) সঙ্গে তার রিয়ে হয়। বিয়েতে স্বর্ণালঙ্কার, ফার্নিচার ও বরযাত্রী খাবার বাবদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করে তার পরিবার। ২০১৫ সালে আবুধাবীতে চাকরিরত অবস্থায় ফারজানার বাবা মারা গেলে তার পরিবার কিছু ক্ষতিপূরণ পান। ফারজানার স্বামী ওখান থেকে ১০ লাখ টাকা তার ব্যবসায় পূঁজি বিনিয়োগের কথা বলে যৌতুক দাবি করে।
নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে ফারজানা বলেন, স্বামীর যৌতুক দাবি পুরণ না করায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি আমার স্বামী, শাশুড়ী ও ননদ ও তাদের স্বামীরা মিলে আমার ওপর নির্যাতন চালায়। আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন ও পিটিয়ে আহত করেন। আমার ছেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে বাঁচাতে চাইলে তাকেও মারধর করে। যৌতুকের দাবি পূরণ করা না হলে আমার স্বামী আর আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে যৌতুকের দাবিতে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনও করেন। নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে আমার মা থেকে এনে বিভিন্ন সময় স্বামীকে টাকাও দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ২৯ মে বিকাল ৩টার দিকে আমার স্বামীর ফোন পেয়ে তার মা, বোন ও বোনের স্বামীরা আমি ও আমার ছেলেকে রুমে আটকে রেখে বাইর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। তারা আমাকে বদ্ধ ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়ে হত্যা করার ভয় দেখায়। আমি ও আমার ছেলের কান্নাকাটি ও চিৎকারে এলাকার লোকজন খবর পেয়ে আমার মা’কে জানালে তিনি পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় আমাদের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে।