শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেনের দায়ের করা চাঁদা দাবির মামলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী দুই ছাত্রী জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে, একই মামলার প্রধান আসামি রাহাদ হোসেন রিয়াদ চিকিৎসা শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাদিয়া আফসানা রিমা দুই ছাত্রীকে জামিন প্রদান করেন। জামিনের বিরোধিতা করেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী। জামিন পেয়ে ওই দুই ছাত্রী শাজাহানপুরের ডেমাজানি সরকারি কমর উদ্দিন ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাহাদ হোসেন রিয়াদকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
রিয়াদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট বিকেলে গোহাইল ইউনিয়নের খাদাস গ্রাম থেকে তাকে তুলে নিয়ে পাশের জামাদারপুকুর তেলের পাম্প সংলগ্ন একটি টিনের ঘরে আটকে পিটিয়ে আহত করে অধ্যক্ষ মোতাহারের ভাড়াটে লোকজন। পরে মোতাহার হোসেনের দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে থানা পুলিশ জানায়, শুধু চাঁদাবাজির মামলায় নয়, যুবদল নেতা ফোরকান হত্যা মামলাতেও রিয়াদকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, রিয়াদ হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।
আদালতের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করা হয়।
পরীক্ষা শেষে দুই ছাত্রী বলেন, অধ্যক্ষ মোতাহার আমাদের জীবনে দাগ লাগিয়ে দিয়েছেন। তার দুর্নীতির বিচার চাই।
জানা যায়, বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন গত ২২ জুলাই বহিরাগত লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তার সঙ্গে থাকা লোকজনের হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক অবরোধসহ মোতাহারের মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।
পরে ২৫ জুলাই মোতাহার হোসেন ৮ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিয়াদ ছিলেন ১ নম্বর আসামি এবং ওই দুই ছাত্রী ছিলেন ৭ ও ৮ নম্বর।