জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখের ভুলে সরকারি নথিতে বাবার চেয়েও ১৫ বছরের বড় হয়ে গেছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তাঁর বয়স ১০৪ বছর। অথচ তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের বয়স ৮৯ বছর। এমন অস্বাভাবিক তথ্য নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজিয়া সুলতানা।
জানা গেছে, উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইন্দইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খন্দকারের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে রাজিয়া সুলতানা। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর জন্মনিবন্ধন সনদে জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৮৯ সালের ১২ এপ্রিল। সে হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ৩৭ বছর।তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর জন্মতারিখ ভুলভাবে ১৯২২ সালের ২০ জুন উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরকারি নথিতে তাঁর বয়স দাঁড়িয়েছে ১০৪ বছর। অন্যদিকে, তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে তাঁর বয়স ৮৯ বছর।
অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাবার জন্মের ১৫ বছর আগেই মেয়ের জন্ম হয়েছে—যা নিয়ে এলাকায় হাস্যরসের পাশাপাশি নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানার অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় সংশ্লিষ্টদের ভুলের কারণে তাঁর প্রকৃত জন্মসাল ১৯৮৯ সালের পরিবর্তে ১৯২২ সাল উল্লেখ করা হয়েছে। ভুলটি সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি।
তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মিল না থাকায় বিভিন্ন সরকারি ও প্রয়োজনীয় কাজে তাঁকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তিনি।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।