মো. আব্দুল হান্নান:
জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখে (ঈদুল আযহার আগের দিন) হাজীরা আরাফার ময়দানে জমায়েত হন। হজের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ আহকাম হলো যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখ ‘আরাফার ময়দানে’ অবস্থান করা। এই দিনের গুরুত্ত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আরাফার ময়দানে অবস্থান করাই হলো হজ।”
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আরও বলেছেন: “আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এটি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।” (মুসলিম, ১১৬২)
আরাফার দিন কী?
জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখকে ‘ইয়াওমুল আরাফাহ’ বা ‘আরাফার দিন’ বলা হয়। এটি এই তারিখের একটি পারিভাষিক নাম। এই দিনে বিশ্বজুড়ে আগত হাজীরা আরাফাহ নামক মাঠে সমবেত হন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান হলো এই ময়দানে অবস্থান করা। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, “আরাফার ময়দানে অবস্থান করাই হলো হজ।”
আরাফার দিনে রোজা রাখার বিধানটি ব্যক্তি হজে আছেন নাকি নিজ দেশে আছেন, তার ওপর ভিত্তি করে দুটি ভাগে বিভক্ত: (ক) আরাফার মাঠে অবস্থানকারী হাজীদের জন্য এই দিনে রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়। নবী করীম (সা.) নিজে আরাফার ময়দানে অবস্থানকালে রোজা ছাড়া (রোজা বিহীন অবস্থায়) ছিলেন, যেন দোয়ার পাশাপাশি হজের অন্যান্য আমলগুলো পূর্ণ শক্তিতে সম্পাদন করা যায়। (খ) যারা হজে যাননি (সাধারণ মুসলমান), তাদের জন্য আরাফার দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও প্রিয় একটি আমল। আরাফার দিনের রোজার অভাবনীয় ফজিলত। এই একটি রোজার বিনিময়ে মহান আল্লাহ বান্দাকে বিপুল সওয়াব ও মার্জনা দান করেন।
হাদিসে এর দুটি বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
১. দুই বছরের গুনাহ মাফ। সহীহ মুসলিমের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এটি তার পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) হবে।” (হাদীস নং: ১১৬২)
২. হাজার দিনের রোজার সমতুল্য। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আরাফার দিনের রোজার সওয়াব এক হাজার দিন রোজা রাখার সমান।” (তারগিব)
পরিশেষে বলা যায়, হজে না গিয়েও ঘরে বসে মাত্র ১টি রোজা রাখার মাধ্যমে ২ বছরের গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ কোনো মুমিনেরই হাতছাড়া করা উচিত নয়।