
৯ জিলহজ্ব আরাফাতের দিন ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে আল- আজহার মসজিদে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। আসরের নামাজের পর পর খুলে দেওয়া হয়েছে ইফতারের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে প্রবেশপথ। সেটি ছিল মসজিদের দক্ষিণ পার্শে রুয়াকুল আব্বাসিয়ার গেট। এই গেইটে ছাত্ররা আসরের নামাজের পর পরই লাইন ধরে ইফতার করতে ভিতরে প্রবেশ করে। ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা মিলে এক জান্নাতি উদ্যান। সামনে মসজিদ, চারপাশে কাঠে পাথরের দেয়াল। যার ভিতর নারীরা ইফতার করেন, নামাজ আদায় করেন। মাঝখানে খোলা ময়দান। যেখানে রয়েছে সাদা টাইলস করা উঠোন, উপরে খোলা ছাদ। মসজিদের বারান্দায় বসে কেউ কেউ কুরআন পড়ছেন, কেউ তাসবিহ পাঠ করছেন। তাদের সবাই বিদেশি ছাত্র। এর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ছাত্র বেশি। আসরের নামাজের পূর্ব থেকেই মসজিদের খোলা ময়দানে ইফতার পরিবেশন শুরু করেন। যেখানে সবাই সুন্দরভাবে ইফতারসামগ্রী সাজিয়ে রেখে দেয়। সবকিছু ঠিকঠাক মতো সাজানো-গোছানো থাকে। কারও সঙ্গে কারও কথা নেই। যে যার মতো কাজ করছেন। দায়িত্বশীলরা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এবং আযানের কিছুক্ষণ পূর্বে থেকে শুরু হয় ক্বারীদের কোরআন তেলাওয়াত। এই ভাবে চলতে থাকে আজানের আগপর্যন্ত। এরপর আজান হয়। আজানের সাথে সাথে পানি পান করেই সবাই নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। ভিন্ন রকম এক দৃশ্য। বাংলাদেশে দেখতাম ইফতার মানে ছোলা, মুড়ি, পেয়াজু, বেগুনি। এ ছাড়া ইফতার করলে কেমন জানি অপরিপূর্ণ লাগে; কিন্তু এখানে পুরোই ভিন্ন আবহ। মুরগী ও গরু গোস্তসহ অন্যান্য খাবার একেবারে তৈল, লবণ, মরিচ ছাড়া সেদ্ধ। নামাজ শেষে সবাই বাকি খাবার শেষ করতে ব্যস্ত।