৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান ও মিত্রদের সাঁড়াশি আক্রমণে কাঁপছে ইসরাইল

spot_img

পাসাহ উৎসবের প্রাক্কালে ইসরাইল জুড়ে এখন উৎসবের বদলে বাজছে যুদ্ধের সাইরেন। ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সম্মিলিত আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যের, বিশেষ করে ইসরাইলের রণক্ষেত্র এখন এক অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। একদিকে আকাশপথে ড্রোন ও মিসাইল বৃষ্টি, অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি স্থল অভিযান, সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে অঞ্চলটি। খবর আল জাজিরা।

বুধবার ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত শমোনায় একটি ড্রোন অনুপ্রবেশের ফলে সাফাদ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের তথ্যমতে, ইরান থেকে ছোড়া মিসাইলের আঘাতে মধ্য ইসরায়েলের গুশ দান, শ্যারন এবং সামারিয়া অঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।


যদিও কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই সুসংগঠিত হামলা দেশটির জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি মিসাইল প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত ১,২০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ। ইসরায়েল বর্তমানে লেবাননে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরির পরিকল্পনায় স্থল অভিযান ও ভারী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। অনেক এলাকায় গণ-উচ্ছেদ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যুদ্ধ শেষে বেশ কিছু এলাকা দখল করে রাখতে পারে ইসরাইলি বাহিনী।


ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা এখন আর দেশটির জন্য অস্তিত্ব সংকটের কারণ নয়। তবে তিনি লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি সেনা প্রত্যাহার করে তবে ইরান একে জয় হিসেবে দেখবে। কিন্তু লেবাননে চলমান যুদ্ধ এবং হিজবুল্লাহর প্রতি তেহরানের সমর্থন এই সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘কাতায়িব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা’ এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা যদি কুয়েতের ভূমি ব্যবহার করে ইরানে স্থল অভিযান চালায়, তবে এই সংঘাত একটি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধে’ রূপ নেবে। এটি স্পষ্ট, এই প্রক্সি যুদ্ধ এখন শুধু দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করার অপেক্ষায় রয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানে এ পর্যন্ত ৮০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে এবং প্রায় ১৬,০০০ গোলাবারুদ বর্ষণ করেছে। এই ধ্বংসলীলা কবে থামবে তা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ