মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম রিপন:
উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া—ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ সুবিধা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক থেকে বহু আগেই একটি স্বতন্ত্র বিভাগের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মাঝামাঝি অবস্থান হওয়ায় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে বগুড়াকে বিভাগ করা শুধু যৌক্তিকই নয়, সময়ের অনিবার্য দাবি।
তবুও বাস্তবতা হলো—দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে বগুড়াবাসী তাদের এই ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত।
৯০-এর দশকে বগুড়া ও জয়পুরহাটসহ আশপাশের জেলার মানুষ যখন বিভাগ দাবিতে রাজপথে নেমেছিল, তখন সেই আন্দোলন রূপ নিয়েছিল গণআন্দোলনে।
ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী, সর্বস্তরের মানুষ এক কণ্ঠে বলেছিল—“বগুড়া বিভাগ চাই”। কিন্তু আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়ন আর হয়নি।
এরই মধ্যে দেশে নতুন বিভাগ হিসেবে রংপুর ও ময়মনসিংহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা ও ফরিদপুর নিয়েও চলছে আলোচনা। তাহলে প্রশ্ন জাগে—সব দিক দিয়ে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বগুড়া কেন পিছিয়ে থাকবে?
বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা—এই চারটি জেলা নিয়েই গঠন করা যেতে পারে একটি কার্যকর বিভাগ। প্রয়োজনে গাইবান্ধাকেও যুক্ত করা সম্ভব। দেশের অন্যান্য বিভাগ যেমন সীমিত জেলা নিয়েও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তেমনি বগুড়াও হতে পারে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কেন্দ্র।
বিষয়টি কেবল একটি অঞ্চলের আবেগ নয়—এটি উন্নয়ন, সুষম বণ্টন ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশ্ন। বিভাগ হলে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, বাড়বে বিনিয়োগ, গতি পাবে শিল্প-অর্থনীতি, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।
এখন প্রয়োজন সুস্পষ্ট উদ্যোগ, জোরালো উপস্থাপন এবং সম্মিলিত দাবি। নীতিনির্ধারকদের কাছে বগুড়ার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরা জরুরি। কারণ, সরকার চাইলে অসম্ভব কিছুই নয়।
বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা—আর অপেক্ষা নয়, এবার বাস্তবায়ন হোক বহুদিনের স্বপ্ন। বগুড়া বিভাগ হোক—উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মধ্য দিয়ে।
লেখক: প্রকাশক ও চেয়ারম্যান, সংবাদ বুলেটিন।