
চারপাশে শুধু পানি। চোখের দৃষ্টি যতদূর যায়, শুধুই পানির বিশালতা। পানির ওপারে কি আছে, তা বোঝা যায় না। শুধু দেখা যায়, ভাসমান বাড়ির টিনের চাল আর হারানো স্বপ্নের চিহ্ন। কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উচু দালানে, আর কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে। তাদের চোখে জল, হৃদয়ে ব্যথা।
আকাশে কালো মেঘ জমা হয়েছে। শহরজুড়ে দিনের বেলা অন্ধকার। বিদ্যুৎ নেই ৬ দিন ধরে। চার্জার লাইটের ব্যাটারি শেষ, সৌরবিদ্যুৎও কাজ করছে না। দোকানে মোমবাতি নেই, আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিকেন হারিয়ে গেছে কবেই । ত্রাণের গাড়ি দেখলেই মানুষের আকুল আবেদন—“একখান দেননা ভাইয়া।”
কুমিল্লা থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। লক্ষ্য, বন্যার কবলে পড়া শতাধিক পরিবারকে খাবার পৌঁছে দেওয়া। পথে আমাদের মতো হাজারো মানুষ সহায়তার জন্য বেরিয়েছে। তীব্র জ্যাম, বৃষ্টি, রোদ—সব কিছুর মাঝেও আমরা এগিয়ে চলেছি, ক্লান্তি উপেক্ষা করে। প্রায় ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ফেনীতে পৌঁছালাম।
শহরে ঢুকতেই বন্যার ভয়াবহতা চোখে পড়ে। গাড়ি হাটু সমান পানিতে থেমে গেছে। সামনে এগোনো সম্ভব নয়, তাই অন্য পথে চলতে হলো। উচু দালানের নিচতলায় পানি। খাবার পৌঁছাতে হলে নৌকা প্রয়োজন। আমাদের গাড়ির চারপাশে মানুষজন জড়ো হয়েছে—ক্ষুধার্ত আর অন্ধকারের ভয়ে কাতর।
দামি পোশাক পরা বিল্ডিংয়ের বাসিন্দাদের চোখে জল, এক বেলা খাবার আর একটি মোমের জন্য ত্রাণের গাড়ির পিছনে ছুটছে। তাদের এই দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমরা যখন খাবার বিতরণ করতে নামলাম, দেখা গেল শিশুরা কাতর চোখে খাবার চাইছে। প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা একটি মোমের জন্য এদিক সেদিক যাচ্ছে , মায়েরা সন্তানদের কোলে নিয়ে অপেক্ষায় আছে। বাবারা পানির মধ্যে খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করছে, আর বৃদ্ধারা চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে।
এই দৃশ্যগুলো সত্যিই হৃদয় ভাঙার মতো। সংকটের এই মুহূর্তে সবাইকে একসঙ্গে সাহায্য করতে হবে। ত্রাণ নিয়ে গ্রামাঞ্চলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। আমাদের সামান্য সহায়তা এই মানুষেদের চোখে আশার আলো ফুটাবে। চলুন সম্মিলিত চেষ্টা করি যাতে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও কমানো যায়।
মাজহারুল ইসলাম নাঈম