মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম রিপন:
আজ ১ আষাঢ়। বাংলা বর্ষপঞ্জির আষাঢ় ও শ্রাবণ—এই দুই মাস নিয়েই বর্ষা ঋতু। প্রকৃতির রূপান্তরের এই ঋতুর আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সোমবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। তবে আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা আর বাতাসের স্যাঁতসেঁতে স্পর্শ যেন বর্ষার আগমনী বার্তাই বহন করছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আষাঢ়ের শুরুতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে, যা বর্ষার আবহকে আগেভাগেই তৈরি করেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও উদ্যান এলাকায় ইতোমধ্যে ফুটতে শুরু করেছে কদম ফুল। কৃষ্ণচূড়ার উজ্জ্বল লাল রঙ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে জায়গা করে দিচ্ছে বর্ষার নিজস্ব আবহকে। বৃষ্টি না থাকলেও মেঘলা আকাশ আর আর্দ্র বাতাস নগরজীবনে এনে দিয়েছে এক ধরনের কোমল বিষণ্নতা। এমন পরিবেশেই যেন নতুন করে মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের সেই চিরন্তন পঙক্তি— “আবার এসেছে আষাঢ়, আকাশ ছেয়ে।”
বাংলাদেশের মানুষের কাছে বর্ষা কেবল একটি ঋতু নয়, এটি এক গভীর সাংস্কৃতিক অনুভূতির নাম। যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকদের সৃষ্টিতে বর্ষা এসেছে প্রেম, বিরহ, স্মৃতি ও প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্কের প্রতীক হয়ে। তাই বর্ষার প্রথম দিন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা যায় উৎসবমুখর আবহ। কেউ শেয়ার করছেন বর্ষার গান, কেউ কবিতার পঙক্তি, আবার কেউ প্রকাশ করছেন কদমফুলের ছবি।
বর্ষার প্রথম দিনে তাই বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা থাকলেও প্রকৃতি যেন ইতোমধ্যেই তার আগমনের ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা প্রথম বর্ষণধারায় ভিজে ওঠার।