সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের ২০ জন কর্মকর্তার উপর মামলা, ৮ জনকে অপসারণের প্রতিবাদে ও পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৪টা থেকে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএম ইয়াসিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার উপর মামলা, অপসারণ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ ও বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি।
তিনি জানান, সারাদেশে ৮০টি সমিতির মধ্যে ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জসহ ৬০টি সমিতি বিদ্যুৎ বন্ধ রেখেছে। দাবি পূরণ না হলে বিদ্যুৎ বিতরণ বন্ধ থাকবে।
এদিকে এদিকে বৈষম্য থেকে মুক্তিকামী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে এজিএম (ওএন্ডএম) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হাকিম, মো. সালাহউদ্দিন, (ডিজিএম) মো. আসাদুজ্জামান ভূইয়া, এজিএম (ইএন্ডসি) প্রকৌশলী রাজন কুমার দাস স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আরইবি-পবিস একীভূতকরণসহ অভিন্ন চাকুরিবিধি বাস্তবায়ন এবং সকল চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের ২ দফা দাবি আদায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলন চলমান রয়েছে। আন্দোলনের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক পল্লী বিদ্যুৎ সিস্টেম তথা আরইবি সংস্কার সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখপূর্বক সংস্কারসহ অন্যান্য সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের জন্য গত ১ আগস্ট ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং ইতোপূর্বে কমিটির ৪টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত এবং দফায় দফায় সভা অনুষ্ঠিত হলেও সরকারের সংস্কার উদ্যোগে আরইবি’র প্রত্যক্ষ অসহযোগিতার (সভায় অনুপস্থিত থাকা, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন না করা, পরবর্তীতে বিদ্যমান কাঠামো বহাল রাখার প্রস্তাব প্রদান, গোপনে আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি) কারণে কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়নি। গণস্বাক্ষরসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দাবি উপস্থাপন, গ্রাহক সেবা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রেখে গত মে মাসে ৫দিন এবং জুলাই মাসে ১০ দিন কমবিরতি, আগস্টে লং মার্চ টু আরইবি, ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটামে গণছুটি ঘোষণার পর জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় কর্মসূচি প্রত্যাহার, সারাদেশে একযোগে ডিসি অফিস ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিতকরণের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বরাবর একাধিকবার স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়।
চলমান প্রেক্ষাপটে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের, বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) কয়েকজনকে গ্রেফতার এবং ২০ জন কর্মকর্তাকে চাকুরি থেকে স্থায়ী বহিস্কার এবং অন্যান্য কর্মকর্তাকে হয়রানিমূলক বদলির আদেশ করা হয়। এমতাবস্থায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি অহিংস আন্দোলনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে আরইবির পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং সেনাবাহিনীর ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে অস্থিতিশীল করার প্রত্যক্ষ মদদের কারণে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণ, সমিতির কর্মকর্তাদের চাকুরি অবসানের আদেশ ও মিথ্যা মামলা ওহয়রানীমূলক বদলির আদেশ প্রত্যাহার এবং ২ দফা বাস্তবায়নের পরিপত্র জারি করতে হবে। অন্যথায় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণাপূর্বক ২ দফা দাবি আদায়ে ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা অভিমুখে লং মার্চ করতে বাধ্য হবে। ১৪ কোটি মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে টেকসই, আধুনিক ও যুগোপযোগী বিতরণ ব্যবস্থা বিনির্মাণ এবং শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য নিরসনে দেশের সকল স্তরের ছাত্র-জনতাসহ সর্বসাধারণের সুদৃষ্টি কামনা করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।