আনোয়ার হোসেন, কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী নিজ কন্যা সন্তানকে হত্যা করেন আপন বাবা-মা। পরে সন্তানকে হত্যার দায়ে বাবা জাহিদুর ইসলামসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত জাহিদুল সদরের হলোখানা ইউনিয়নের কাগজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। হত্যার শিকার স্কুল ছাত্রী জান্নাতি (১৫) জাহিদুল ইসলামের নিজ কন্যা।
পুলিশ জানায়, কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকার মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর কন্যা জান্নাতি খাতুন (১৫) কে গত ১০ মে ২০২৫ তারিখ গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি হত্যা করে বাড়ির আনুমানিক ১০০ গজ সামনে ভূট্টা ক্ষেতের পাশে ফেলে রাখে। জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে উক্ত সংবাদ কুড়িগ্রাম থানা পুলিশ পাইয়া তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উক্ত লাশ উদ্ধার করে এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
পরবর্তীতে ভিকটিমের চাচা মোঃ খলিল হক (৫৫) বাদি হয়ে কুড়িগ্রাম থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। এজাহার প্রাপ্তির পর কুড়িগ্রাম থানার একটি চৌকস টিম উক্ত হত্যাকান্ডের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পারে ভিকটিমের পিতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর সাথে তার প্রতিবেশি মজিবরগং দের ৩২ বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং জাহিদুল ইসলাম তার প্রতিপক্ষ মজিবরগং দের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার তারিখ ১০/০৫/২৫ ইং রাত্রি ০৩ঃ০০ হইতে ০৬ঃ০০ ঘটিকার মধ্য যে কোন সময় তার স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রীর সহযোগিতায় হলোখানা কাগজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী নিজ কন্যা জান্নাতি খাতুন (১৫) কে রড ও দা দিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাইয়া হত্যা করে ভুট্টা খেতে ফেলে রাখে এবং খরের পালায় আগুন লাগিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও ওসি ডিবি বজলার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্তকারী অফিসার কুড়িগ্রাম থানার ওসি মোঃ হাবিবুল্লাহ ও ডিবি পুলিশের একটি টিম তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে মাত্র ৪ ঘন্টার মধ্যে উক্ত ঘটনার মূলরহস্য উদঘাটন সহ মূল ঘাতক ভিকটিমের পিতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৪৫), ভিকটিমের মা মোছাঃ মোর্শেদা বেগম (৩৮) ও ভিকটিমের চাচী মোছাঃ শাহিনুর বেগম (৪৫) দের গ্রেফতার করে এবং গ্রেফতারকৃত আসামী ভিকটিমের পিতা জাহিদুলকে সাথে নিয়ে তার দেখানো বাড়ির পার্শ্বের বাঁশ ঝাড়ে মাটির নিচে পোতা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২০ মিঃলিঃ লোহার রড (লম্বা ৩৩ ইঞ্চি) ও একটি দা উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত ৩ জন আসামী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এবং মামলা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।