
ফরহাদ আহমেদ,বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে গত ২০ আগস্ট পদত্যাগ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুব । এরপর থেকে জল্পনা, কে হচ্ছেন বশেমুরবিপ্রবির নতুন উপাচার্য।
কেমন উপাচার্য চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? সেই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতামতে উঠে এসেছে নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা।
এবিষয়ে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু দারদা বলেন, “একটা ক্যাম্পাসে একজন জন ভিসি শিক্ষার্থীদের একজন অভিভাবক হবেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তির অধিকার নিশ্চিত করবেন। সেটা শিক্ষার পরিবেশ হলের পরিবেশ সংস্কৃতির পরিবেশ। তিনি ছাত্রদের মেধা বিকাশে সেশনজট মুক্ত একটি স্মার্ট ক্যাম্পাস তৈরি করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। এগুলো যেনো এমন না হয় যে এটা একটা ডিগ্রী কলেজ। শুধু কিছু ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে দিন শেষে একটা সার্টিফিকেট নিয়ে বের হবে, কিছু নিয়োগ বানিজ্য হবে। বরং ক্যাম্পাসের অভিভাবক হিসেবে তিনি শিক্ষক নিয়োগ দিবেন যোগ্যতার ভিত্তিতে, কোন লবিং গ্রুপিং হবে না । ক্যাম্পাসের একেকটা ল্যাবরুম কে তিনি সাজাবেন উন্নতমানের গবেষনা কেন্দ্র হিসেবে । এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে গড়ে তুলবেন আকর্ষনীয় জ্ঞানের অন্যতম ভান্ডার হিসেবে। এমনই একজন ভিসি চাই।”
কুমিল্লা জিলা এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মীর এ.বি.এম সোলাইমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভিসি না থাকার কারনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে সবকিছু পিছিয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙে পড়ছে। অনতিবিলম্বে একাডেমিক ও প্রশাসনিক স্থবিরতা দূরীকরণে যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত, সংস্কারমনা, শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য দ্রুততম সময়ের ভিতরে নিয়োগ দিতে হবে।যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করা হয়।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা যে ৩ জন ভিসি পেয়েছি তারা কোনো না কোনোভাবে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এতে দেখা যায় তারা অনিয়ম-দুর্নীতির মহাসুযোগ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছেন। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত ভিসির পুনরাবৃত্তি চাই না। কোনো দলবাজ শিক্ষককে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবে।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাজ্জাদ শেখ জয় বলেন , "আমরা একজন শিক্ষার্থী বান্ধব উপাচার্য চাই। আমাদের ক্যাম্পাসে এমন একজন অভিবাবক প্রয়োজন যে, আমাদের ক্যাম্পাসের প্রতিকূল পরিবেশ রক্ষা করে ক্যাম্পাসে সু-শৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারবে।"