দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় খুলনা জেলা ছাত্রদল কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করে এই কমিটি। এই সময়ে জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মহানগর কমিটির সঙ্গে একযোগে জেলা কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এর আগে একই বছরের ৫ আগস্ট পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণ দেখিয়ে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানালেও জাতীয় নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ইউনিট কমিটিগুলো কার্যকর থাকলেও জেলা পর্যায়ে কোনো শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় সংগঠনটি কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, নতুন কমিটি গঠনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা - কল্পনা । আলোচনায় রয়েছেন গাজী শহিদুল, মাছুম বিল্লাহ, হাফিজুর রহমান সাগর, আবু জাফর, ফিরোজ আহমেদ, খালিদ বিন ওয়ালিদ, জাহিদুল ইসলাম, তানভীর আলম, ইমরান হোসেন ও সাবেক মহানগর ছাত্রদল নেতা আশিকুর অনি।
এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা পর্যায় থেকেও পদপ্রত্যাশীদের নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সাল চৌধুরী, ইয়ামিন শেখ, ইমতিয়াজ আলী সুজন, ইসমাইল খান, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান ও ওয়াদুদ হাসান প্রমুখ।
এ বিষয়ে কপিলমুনি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার নাফিজ বলেন, “দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও কর্মীবান্ধব ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করা হলে খুলনা জেলা ছাত্রদল আরও বেগবান হবে।”
কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কবে নাগাদ নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।