এফ. এম. রিপন আহম্মেদ
মানুষের জীবনে কিছু মানুষ থাকেন, যাদের অনুপস্থিতি সময় যতই পেরিয়ে যাক, হৃদয়ের ভেতর ততই গভীর শূন্যতা হয়ে বাজতে থাকে।
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার এমনই এক নাম প্রয়াত ফজলুল হক রতন—একজন সাহসী, সৎ ও মানবদরদী নেতা, যার স্মৃতি আজও দক্ষিণ বগুড়ার মানুষের মনে অমলিন হয়ে আছে।
আজ ৮ মার্চ, তার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৫ সালের এই দিনেই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর তার অসংখ্য কর্ম তাকে আজও জীবন্ত করে রেখেছে হাজারো মানুষের স্মৃতিতে।
ফজলুল হক রতন ছিলেন একজন সাবেক ছাত্রনেতা, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সফল প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি সাবেক চোপিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও চক চোপিনগর যুব উন্নয়ন সংঘসহ অসংখ্য সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।
কিন্তু তার পরিচয় শুধু রাজনৈতিক পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন মানুষের নেতা—অসহায়, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের আশ্রয়স্থল। গরিব-দুঃখী মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অনেকটা রবিন হুডের মতো, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কখনোই পিছপা হননি।
নিজের বা পরিবারের কথা তিনি খুব একটা ভাবেননি। যদিও তার এক কন্যা বর্তমানে লন্ডনে এবং এক পুত্র কানাডায় কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত। তবুও সারাটি জীবন তিনি ভেবেছেন শাজাহানপুর তথা দক্ষিণ বগুড়ার মানুষের কথা। মানুষের কল্যাণেই ছিল তার জীবনব্যাপী সংগ্রাম।
শাজাহানপুর উপজেলার এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেখানে তার উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি। তার একান্ত প্রচেষ্টায় অসংখ্য রাস্তা-ঘাট নির্মাণ হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। মসজিদ-মন্দিরেও হয়েছে ব্যাপক উন্নয়ন। উন্নয়নের এই নিরলস যাত্রার কারণে অনেকেই তাকে বলতেন “উন্নয়নের ম্যাজিক ম্যান”।
শাজাহানপুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করার স্বপ্ন নিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন তিনি।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার প্রিয় ছোট ভাই শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহীন বলেন, “প্রয়াত ফজলুল হক রতন সারাটা জীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংগ্রাম করেছেন। তার কর্মজীবনে শাজাহানপুরে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন অবিসংবাদিত নেতা। মৃত্যুবার্ষিকীর এই দিনে আমি সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই।”
ফজলুল হক রতনের অকাল মৃত্যুতে ১১ বছর পার হয়ে গেছে। সময়ের স্রোত অনেক দূর গড়িয়ে গেলেও মানুষের হৃদয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন তার কর্মগুণে, তার আদর্শে, তার মানবিকতায়।
তার মতো নেতার শূন্যতা হয়তো কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত নসিব করুন—এটাই শাজাহানপুরের মানুষের প্রার্থনা।
আমিন।