
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: সেবার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীরা নিজেরাই এখন অসহায়। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনা ও সেবার মানের নিম্নগতির কারণে এ হাসপাতাল নিজেই এক ‘রোগী’তে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে অনিয়ম, ঘুষবাণিজ্য, এবং জনবল সংকট চরমে পৌঁছেছে। রোগীরা প্রতিদিন খাবারের নিম্নমান, অপারেশন বিভাগের সুই-সুতোসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবের শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং আইসিইউ ইউনিট না থাকায় সংকট দিনে দিনে আরও বেড়েই চলছে।
স্থানীয় নাগরিক কমিটির নেতা মিহির ঘোষ জানান, হাসপাতালের অবস্থা নিয়ে বহুবার আন্দোলন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অপারেশন এবং জরুরি বিভাগে রোগীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে সেলাই এবং ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়, আর না দিলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হতে হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে রোগীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে।
জাসদ সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জনি বলেন, “হাসপাতালের ঠিকাদার একজন প্রভাবশালী সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় খাবারের মানের দুরাবস্থা ঠিক করা যাচ্ছে না।” রোগীরা পচা দুধ, নিম্নমানের ডিম এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন। পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল দশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রোগীদের স্বজনরা বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করে আনছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, হাসপাতালটি ২০০ বেডের জন্য অনুমোদিত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ৪২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৮ জন চিকিৎসক দিয়ে চালানো হচ্ছে। দুই এক্স-রে মেশিনের একটি বিকল এবং রেডিওলজিস্টের অভাবে অন্যটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন সপ্তাহে মাত্র তিন দিন চালু থাকে সনোলজিস্ট ডাক্তার না থাকার কারণে। এছাড়া, ক্লিনারের পদেও প্রচুর কর্মচারীর সংকট রয়েছে।
এমতাবস্থায়, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল যেন রোগীদের পাশাপাশি নিজেও একটি রোগীতে পরিণত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমের এ হাল দ্রুত পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।