জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বগুড়ার ৭২টি পেট্রোল পাম্পের অর্ধেকের বেশি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষরা।
সোমবার শহর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পাম্পে ‘জ্বালানি নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে, আবার কোথাও পাম্প সামান্য মিলছে তেল।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি চলছে। বিশেষ করে ঈদের আগের রাতে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুত শেষ হয়ে যায়। এর প্রভাব ঈদের দিন থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরদিন কিছু পাম্প সীমিতভাবে বিক্রি শুরু করলেও সোমবার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। মজুত শেষ হওয়ায় একে একে বিক্রি বন্ধ করেন পাম্প মালিকরা।
তেল নিতে এসে ফিরে যাওয়া বাইকার আনোয়ার হোসেন বলেন, “এভাবে দেশ চলতে পারে না। আসলেই তেল নেই, নাকি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে—সরকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত”।
আরেক বাইকার হাসান মাহমুদ বলেন, “খোলা বাজারে তেল পাওয়া যায়, কিন্তু পাম্পে গেলে বলা হয় তেল নেই। মনে হচ্ছে সিন্ডিকেটের খেলা”।
পাম্প সংশ্লিষ্ট হায়দার আলী বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। সকাল ১০টা পর্যন্ত বিক্রি করেছি, এরপর মজুত শেষ হওয়ায় বন্ধ করতে হয়েছে। তেল পেলেই বিক্রি শুরু হবে”।
রাজশাহী পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন জানিয়েছেন, “৭২টি পাম্পের মধ্যে ৪০টির বেশি বন্ধ রয়েছে। খোলা পাম্পগুলোতেও তীব্র সংকট চলছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাবে না”।