বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চাপ মোকাবিলায় একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, আংশিক হোম অফিস চালু এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সাপ্তাহিক ছুটিতে অতিরিক্ত একদিন যোগ করা, কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঘরে বসে কাজের সুযোগ, অফিস সময়সূচি পরিবর্তন বা কাজের সময় কমানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালু।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ডলার সংকটের কারণে সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে।
কর্মকর্তারা জানান, আপাতত তিন মাসের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলও গ্রহণ করা হতে পারে।
এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতোমধ্যে সরকারি অফিসগুলোকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং আলোকসজ্জা কমানো। প্রতিটি অফিসে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে নজরদারি দল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাহিদা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত পদক্ষেপ জানা যাবে।