
বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ-
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবিসাস) প্রায় ২০ এর অধিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্তত ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘গোপালগঞ্জ টিউশনি ম্যানেজমেন্ট’ এর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে এবং সেনা কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানালে প্রতারক চক্রটি অফিস বন্ধ করে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে এই প্রতারক চক্র।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুয়া চক্রটি ‘গোপালগঞ্জ টিউশনি ম্যানেজমেন্ট’ নামক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। টিউশন দেওয়ার পূর্বেই ২ হাজার পর্যন্ত চার্জ দাবি করেন তারা। এ সময় একজন তাদের প্রতারক চক্রের একজন মহিলাকে গার্ডিয়ান পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দেন তারা। পরে আশ্বস্ত হয়ে অর্থ পরিশোধ করলেও গার্ডিয়ানের সাথে ২০ তারিখের আগে দেখা করতে নিষেধ করেন। গতকাল (১৬ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে তাদেরকে মুঠোফোনে কল করেও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ এর অধিক শিক্ষার্থী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরাধ চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে বশেমুরবিপ্রবি ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল কবির এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী কামাল উদ্দিন শিকদার বলে চিহ্নিত করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী বশেমুরবিপ্রবি ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ রুবাইদ হাসান বলেন,"কিছু দিন আগে গোপালগঞ্জ টিউশন ম্যানেজমেন্ট নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট আসে। এবং সেই রিকুয়েষ্ট এক্সেপ্ট করি। তার কিছু দিন পর থেকে সেই আউডি থেকে টিউশনির পোস্ট দেওয়া শুরু হয়। ম্যাক্সিমাম টিউশনি গুলো ঘোনাপারা, নীলারমাঠ, সোনাকুড় বা লঞ্চঘাট এই এলাকা গুলোতেই ছিল। ৪র্থ শ্রেণি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি, সপ্তাম, অষ্টম, নবম, একাদশ এরকম শ্রেণির শিক্ষার্থীদদের টিউশনির কিছু অফার ছিল। তাদের পোস্টে কমেন্ট করলে তারা সবাইকেই ইনবক্স করতে বলে। মেসেঞ্জারে মেসেজ দিলে তারা একটি লিংক দেয়।সেখানে অনেক গুলো টিউশনির অফার থাকে। সেখানে নাম এবং মোবাইল নম্বর নিয়ে পছন্দের টিউশনে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয় এবং তাদের দেওয়া একটি নগদ একাউন্ট নাম্বারে ২হাজার টাকা পাঠিয়ে টিউশন কোড, নাম, নাম্বার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভাগ লিখে মেসেজ দিতে বলে। এর বাইরে তাদের সাথে মেসেঞ্জারে কথা বলে বিকাশে ক্যাশ আউট এর মাধ্যমেও টাকা পাঠানোর ব্যাবস্থা থাকে। টাকা পাঠানো হলে তার পর তারা অভিভাবক এর মোবাইল নাম্বার দেয় এবং তাৎক্ষণিক কথা বলে কি বলল সেটা তাদের জানাতে বলে। তো যারা যারা তাদের থেকে টিইশনি নিয়েছে অর্থাৎ টাকা দিয়েছে এবং অভিভাবক দের সাথে কথা বলেছে সবাইকেই আগামী শনিবার ১৯ তারিখ বা রবিবার ২০ তারিখ পড়ানো শুরু করতে বলে। তারা তাদের একটি অফিস এর লোকেশন এবং তাদের সাথে যোগাযোগের নাম্বার ও দেয়। যাদের টিউশনি দেওয়া হয় তাদের কারো কারো আইডি কার্ডের ছবি দিয়ে তার পোস্ট করে। অনেক সময় দেখা যায় যে সব কিছু একই শুধু লোকেশন চেন্জ করে আরেকটা টিউশনির অফার দেওয়া হয়েছে। তখন সন্দেহের সৃষ্টি হয়। যাদের আইডি দিয়ে তারা পোস্ট করেছে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে সবাই বলে যে সবাই কেই ১৯ তারিখ বা ২০ তারিখ যেতে বলছে। বুধবার থানায় গেলে তারা গড়িমসি করে। কালক্ষেপণ করতে থাকে। দুপুরে বিকালে এভাবে সময় দেয়। পরবর্তীতে আমরা সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করি। তারা লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। আমরা বিকাল সাড়ে ৪টায় সেনা ক্যাম্পে পৌঁছাই। তারা আমাদের অভিযোগটি গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে বলে জানায়। কিন্তু তাদের কাছে লোকেশন ট্রাক্যার না থাকায় তারা সেভাবে আগাতে পারে না। তারা বলে আপানারা দেখা করতে চান আমরা ফোর্স পাঠাবো। কিন্তু দেখা করতে চাইলে তারা ফোন অফ করে দেয়। তখন তারা বলে আমরা আজ এইটা নিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো। আপনারা কোনো ইনফরমেশন পেলে আমাদের জানাবেন। আমরা চেষ্টা করবো। পুলিশের কাছে ও একটা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কাল পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ তারা না নিতে পারলে আমরা RAB এর কাছে অভিযোগ করবো।"
আরও এক ভুক্তভোগী বশেমুরবিপ্রবি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এপ্লাইয়েড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন,"ওদেরকে টিউশনির জন্য নক দিলে মিডিয়া ফি চায়। মিডিয়া ফি দিলে এরপর গার্ডিয়ানের নাম্বার দেয়।ঐ গার্ডিয়ান কথা বলে টিউশন কনফার্ম করে এবং ঠিকানা ও টিউশন শুরুর সময় বলে। কিন্তু মূলত ঐ একই গার্ডিয়ানের নাম্বারই সবাইকে দিছে তিনি গার্ডিয়ান সেজে কথা বলছে।
আর সবাইকে ১৯ বা ২০ তারিখ থেকে আসতে বলে।"
ভুক্তভোগীরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোঃ নাসিরউদ্দিন প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার বরাবর অভিযোগ জানালে তিনি জানান "অস্থায়ী ক্যাম্প হওয়ায় আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় ট্রেকার নেই। তারপরও আমরা ব্যাবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।"