শাজাহানপুর বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :
গত কয়েক সপ্তাহ কঠিন সময় পার করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর চেয়ারম্যান ইমরান খান। তার হাজার হাজার সমর্থক কারাগারে। দলের নেতৃত্ব থেকে ডজনখানেক কর্মী ইতোমধ্যে ইস্তফা দিয়েছেন। তার দল নিষিদ্ধও হতে পারে। শুধু তাই নয়, গত ৯ মে সমর্থকরা সামরিক বাহিনীর স্থাপনায় তাণ্ডব চালানোয় ইমরানের বিরুদ্ধে উস্কানিরও অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলে যেকোনও মুহূর্তে ডাকা হতে পারে সামরিক আদালতে। এমন পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।
চাপের মুখে আতঙ্কে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন নেতা ইমরানের পিটিআই ছেড়ে দেওয়ায় হাল ধরবেন কে এ নিয়ে চলছে আলোচনা। কিন্তু বিবিসিকে সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, ‘আপনি মনে করেন, এটি আমার জন্য বড় সংকট? কিন্তু আমি তা মনে করি না।’

লাহোরে জামান পার্কের নিজের বাসভবনে অবস্থান করছেন ইমরান খান। সেখানকার একটি জায়গায় সংবাদকর্মীদের যাতায়াত চোখে পড়ার মতো। এখানেই চলমান পরিস্থিতি নিয়ে লাইভ অথবা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন তিনি।
এ সপ্তাহে পিটিআই-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাওয়াদ চৌধুরী ও মানবাধিকার মন্ত্রী শেরিন মাজারিসহ দুই ডজনেরও বেশি সহকর্মীকে হারিয়েছেন ইমরান। সাক্ষাৎকারে খানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এই পরিস্থিতিতে তিনি কীভাবে দল চালাবেন?
ইমরান বলেন, ‘প্রথমত যারা চলে গেছেন, শূন্য হওয়া সেসব পদ পূরণ করবো। তরুণ ও নতুন লোক দিয়ে। কিন্তু তারাও গ্রেফতার হতে পারেন। এসব সরকারের সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এসব পুরনো কৌশল। কিন্তু মনে হচ্ছে, দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন থামছে না।’

সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে ক্ষমতা হারিয়েছেন ইমরান খান। কিন্তু এখন তিনি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছেন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর কোনও ভূমিকা থাকবে না, এমন পরামর্শ দেওয়া 'বোকার স্বর্গে' বাস করা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, ‘আমার প্রশ্ন জাগে, তারা কী মনে করে? আমি বলতে চাই আমাকে এই দৌড় থেকে সরিয়ে দিলে পাকিস্তান কী লাভবান হবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু এই পুরো পরিস্থিতি দেখছি, অপেক্ষা করুন এবং দেখুন। তারা সম্ভবত আমাকে জেলে ঢোকাবে। কিন্তু এসব মেনে নেবো এবং নীরব থাকবো, তা হবে না।’
৯ মে ইমরান খানকে গ্রেফতারের পর তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের কর্মী-সমর্থকরা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর শুরু হয় দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অভিযান। তখন থেকেই কার্যত জামান পার্ক বাসভবনে অবস্থান করছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি