
মোঃ জাহিরুল ইসলাম,ঢাকা প্রতিনিধি
সরকারি তিতুমীর কলেজকে অধিভুক্তির বেড়াজাল থেকে মুক্তি এবং তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রুপান্তরের দাবিতে আজ ৩০ অক্টোবর সকল ১১:০০ ঘটিকার সময় তিতুমীর কলেজের সকল শিক্ষার্থীরা একত্রিত হতে থাকে। এরপর সকল শিক্ষার্থীরা তিতুমীর কলেজের ক্যাম্পাসের চারদিকে একবার প্রদক্ষিণ করেন। সকল শিক্ষার্থীরা নানা রকম স্লোগান দিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজের মূল গেটের সমবেত হয়। এখান থেকে তারা আবার নানা রকম স্লোগান দিতে থাকে এবং আমতলীর মহাসড়কের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। সেখানে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ১০ মিনিট অবস্থান করেন। এরপরে তারা আবার তিতুমীর কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিতুমীর কলেজের মূল গেটের সামনে তারা তাদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ।তারা প্রথমে রাস্তা অবরোধ করে তারা তাদের নানা রকম দাবি উপস্থাপন করেন। তিতুমীর ঐক্য কমিটির সদস্য শাহজালাল (২০২০-২১) জানান যে প্রায় তিন দশকে দীর্ঘ ২৭ বছরে তিতুমীরিয়ানদের প্রাণের দাবি তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় যা ১৯৯৭ থেকে আজ পর্যন্ত চলমান সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের লক্ষ্যে অসংখ্যবার আন্দোলনে নেমেছে। তিনি আরো জানান যে আমরা ২০০৫ সালের জগন্নাথ কলেজের সাথে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় পর আন্দোলন করেছিলাম কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা হয়ে ওঠেনি ।সর্বশেষ ২০১৪ সালে আন্দোলনকে দমন করার জন্য তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার ও তার ছাত্র সংগঠন ও পুলিশবাহিনী দিয়ে এক মর্মান্তিক রক্তাক্ত তাণ্ডব চালাই। শুধু তাই নয় আমরা তিতুমীর কলেজ এবং অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে একত্রিত হয়ে ২০১৭ সালে আন্দোলন করলে তারা আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করেন। ২০১৭ সাল থেকে আজ অবধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের যা দিয়েছে তা হলো সেশনজট ফলাফল বিভ্রান্ত সার্টিফিকেটে affiliated শব্দটাকে বোল্ড করে সার্টিফিকেটের মান কমানো ডিজিটাল শোভা দপ্তরের নামে প্রজেক্টর এর সামনে দাঁড় করিয়ে নাটকীয়তা ।তাই আমরা আর ঢাবির অধীনে না থেকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আজকের এই আন্দোলন কর্মসূচি। তিতুমীর কলেজের আরেক শিক্ষার্থী হাসান শুভ (২০২০-২১) তিনি জানান যে আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষা উপচেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বরাবর ৪ টি গন স্বাক্ষর সম্বলিত সড়ক লিপি সহ ৯৪ পেইজের একটি ফাইল জমা করেছিলাম ফাইল জমা করার এক মাসেও কোন উত্তর না পেয়ে আমরা গত ২৪ অক্টোবর ২০২৪ সকাল ১১:৩০ মিনিটে মহাখালীতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলাম উক্ত দিনে আমরা সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছিলাম তিনি জানিয়েছিলেন আমাদের দাবিগুলো তারা আলোচনা করবেন এবং আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন ।কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের সাথে তারা আর যোগাযোগ করেননি। গত ২৭ অক্টোবর রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন তাদের পক্ষ থেকে আমাদের একটি চিঠি দেন চিঠিতে তারা জানান সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের মতামত জানতে চাইলে তারা পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত দিতে পারবেন বা বিশ্ববিদ্যালয় হলে কিভাবে কি ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে তা জানাতে পারবেন তবে এই মুহূর্তে আপাতত তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে ইউজিসির কিছু করার নেই। এই চিঠি পেয়ে আমরা আজ ৩০ অক্টোবর বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছি তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি অনতিবিলম্বে কমিশনের নিকট হস্তান্তর না করা হলে এই আন্দোলন সংগ্রাম চলবেই। সরকারি তিতুমীর কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের লক্ষ্যে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম "তিতুমীর ঐক্য"এর পক্ষ তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
১. সরকারি তিতুমীর কলেজ কে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের লক্ষ্যে কমিশন গঠন করতে হবে।
২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বাতিল করে সাত কলেজ থেকে সরকারি জিটিভির কলেজকে পৃথক করতে হবে।
৩. একটি একক স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে।