তীব্র গরমের মধ্যে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাতের বেলায় কয়েক মিনিট পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। এতে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মাঝিড়া, দুবলাগাড়ী, মাদলা, চোপীনগর, খোট্রাপাড়া, বীরগ্রাম, ডেমাজানী, নয়মাইল, গোহাইল, আড়িয়াবাজার, জালশুকা, খড়না, আশেকপুর ও রানীহাটসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। কোথাও ২০ থেকে ৩০ মিনিট, আবার কোথাও এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। নির্ধারিত কোনো সময়সূচি না থাকায় কখন বিদ্যুৎ যাবে বা আসবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন গ্রাহকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কয়েক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ এলেও আবার দ্রুত চলে যাচ্ছে। এতে ফ্যান, ফ্রিজ, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অনলাইনে কাজ করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মুদি ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দোকান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় ও হিমায়িত খাদ্য সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে।
ফুলকোট গ্রামের গৃহিণী মালেকা বানু সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে রাতে এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাচ্ছে যে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। ছোট শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, লোডশেডিং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হোক। হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দেব কুমার মালো মুঠোফোনে সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় বিশেষ করে রাতের দিকে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।