
দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ‘ক্যু’ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসানোই সরকারের সার্থকতা। এখানে দল, ধর্ম বা লিঙ্গ দেখার সুযোগ নেই। এই ব্যাড কালচারের কবর রচনা করতে হবে।
কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয় এমন মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কৃষির বিপর্যয় ঘটলে গোটা জাতির বিপর্যয় ঘটবে। কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাফার স্টক তৈরির জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা অল্টারনেট জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।
এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এটিএম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।