দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আজ তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনার ইতি ঘটে; একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তফসিল ঘোষণার পর রাজধানীর মতো বগুড়াতেও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান হওয়ায় তারা এখন ভোটারদের কাছে আরও জোরালোভাবে প্রচারণায় নামবেন। এ ছাড়া সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বগুড়া–১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে জাতি শঙ্কামুক্ত হলো। প্রায় ১৭ বছর পর একটি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনের সুযোগ এসেছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে দায়িত্ব নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার।’ তিনি যোগ করেন, এখন তাদের প্রচার কার্যক্রমেও নতুন গতি এসেছে।
বগুড়া–৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোলাম রব্বানী নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে বলেন, ‘তফসিল ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে কোনো পক্ষের ইন্ধনে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন বা পেছানোর চেষ্টা হলে তা হবে অগ্রহণযোগ্য। নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণই জাতির প্রত্যাশা।’
বগুড়া–৩ আসনে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও জেলা সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ইজাজ আল ওয়াসী জ্বিম বলেন, ‘এটা ছিল সারা দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা। তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যেও নতুন করে উদ্দীপনা দেখা গেছে। বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আরিফ হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ তফসিল ঘোষণার পর নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। কমিশন যেন সমান সুযোগ নিশ্চিত করে—এটাই আমাদের দাবি।’
সাধারণ ভোটাররাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, ‘ভোট আমাদের অধিকার। নির্বাচন নিয়ে আমরা আতঙ্কে ছিলাম। এখন চাই, যেন কোনো সহিংসতা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়।’
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন পর্যন্ত প্রায় দুই মাস বা ৬০ দিনের ব্যবধান রাখা হবে। এবার একসঙ্গে দুটি ভোট হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হবে।
দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে বগুড়ায় ভোটার ২৯ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৫ জন—পুরুষ ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৪৩০ জন, নারী ১৪ লাখ ৮১ হাজার ১৭৬ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩৯ জন।