দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া এখনও তামিল করতে পারেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ৫ জানুয়ারি বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির অভিযোগপত্র গ্রহণ করে রেজাউল করিম বাবলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারির আদেশ দেন। একই মামলায় তার স্ত্রী বিউটি খাতুন আদালতে হাজির হয়ে জামিনে রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, দুদক পৃথকভাবে রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনকে সম্পদের বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয়। নোটিশের পর তারা দুজনই দুদকের বগুড়া জেলা কার্যালয়ে সম্পদের হিসাব জমা দেন।
পরবর্তীতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে সম্পদ যাচাই ও অনুসন্ধান শেষে বগুড়া জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক (এডি) জাহিদুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, রেজাউল করিম বাবলু তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১ কোটি ২ লাখ ৬ হাজার ২৯৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের ডোমনপুকুর আকন্দপাড়ার মৃত ময়েন উদ্দিন গোলবাগীর ছেলে।
এদিকে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত আরও ৭৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৭৭ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা অপর মামলাতেও আদালত তার বিরুদ্ধে দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারি করেন।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে শাজাহানপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, দুদকের পৃথক দুটি মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছেছে। তবে আসামি আত্মগোপনে থাকায় তা এখনও তামিল করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।