
গতকাল শুক্রবার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটির উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হয়েছে অর্থসহ কুরআন পাঠ দিবস। মানুষকে অর্থসহ কুরআন পাঠে অভ্যস্ত করার ও কোরআন বুঝে মেনে নিজের জিবনকে আলোকিত করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কুরআন শিক্ষা সোসাইটি এই দিবস পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
কেমন হয় যখন একদিন হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনার বড় ছেলেটি দেখবেন তাহাজ্জুদ পড়ছে যাকে ফরজ নামাজের মসজিদে নিতে অনেক যুদ্ধ করতে হতো আপনাকে। সকালে অফিসে গিয়ে দেখলেন কেউ আর ঘুষ নিচ্ছে না। আপনার অফিসের বস যিনি দৈনিক আয়ের মেজোরিটি অংশই আয় করে ঘুষ খেয়ে সে যখন দেখবেন আর ঘুষ নিচ্ছে না। বিকেলে ফেরার পথে খবরের কাগজ হাতে নিয়েই যদি চোখে পড়ে খবরের শিরোনাম দেশে চুরি করার একমাত্র সাজা হাত কেটে ফেলা। কেমন হবে ওই দিনটি! ঠিক এমন একটি সোনালী সমাজের বাস্তবতা পেতে হলে কোরানের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে পুরো সমাজে, রাষ্ট্রে এমন উপলব্ধি থেকেই হয়তো বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা সোসাইটির এমন উদ্যোগ নেয়া। তারা অনুধাবন করেছিলেন যে কুরআন নাজিলের গৌরবে মাস হিসেবে 'রমজান' গৌরবান্বিত, যেই কোরআন এর গৌরবে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, যেই কোরানের গৌরবে মুহাম্মদ (স) নবিদের সেরা নবি হলেন সেই কোরআন যদি ব্যক্তিতে, ঘরে, সমাজে রাষ্ট্রে থাকে তবে সেই ব্যক্তি, ঘর, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রও সেই গৌরবে গৌরবান্বিত হয়ে যাবে। সেরাদের সেরা হয়ে যাবে।
দেশের কমবেশী সকল জেলায় পুরুষ ও মহিলারা আলাদা আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সকাল দশটা থেকে ইফতার পর্যন্ত অর্থসহ কুরআন পাঠে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রত্যেক গ্রুপে গ্রুপ লিডার ছিলেন। অর্থসহ কুরআন পাঠ দিবসে সারাদেশে হাজার হাজার পুরুষ ও মহিলা অংশগ্রহণ করেছেন।
জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম সকলের উদ্দেশ্যে অনলাইন মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। তিনি জুম আইডি ও ফেসবুক লাইভে তার মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তিনি আলোচনায় সোসাইটির মূল শ্লোগান উল্লেখ করেছেন ‘জানার জন্যে কুরআন পড়ুন,মানার জন্যে কুরআন পড়ুন’। তিনি বলেন "এই শ্লোগানের ভিত্তিতে বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো এবার ‘অর্থসহ কুরআন পাঠ দিবস’ পালন করা হলো। প্রতি বছর রমজান মাসের তৃতীয় জুমাবার এই দিবস পালিত হয়।"
তিনি আরো বলেন,"মহান আল্লাহ কুরআন নাজিল করেছেন জানার জন্য এবং আমাদের জীবন ও সমাজে বাস্তবায়ন করার জন্যে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দীর্ঘদিন থেকে আমাদের দেশে না বুঝে কুরআন তেলাওয়াত করার রেওয়াজ চলে আসছে। সে রেওয়াজ পরিবর্তন করে বুঝে বুঝে কুরআন পাঠে অভ্যস্ত করার উদ্দেশ্যে এই দিবস পালন করা হচ্ছে। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন সংস্থা এই দিবস পালন করছে"।
তিনি দেশবাসীকে মাতৃভাষায় বুঝে বুঝে কুরআন পাঠের আহ্বান জানান।দিনটিকে ঘিরে পাঠকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস উদ্দীপনার কোন শেষ ছিলোনা। তারা নিজেদের আবেগ ও অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। ভোলা জেলার একজন গ্রুপলিডার মোঃ খাদেমুল ইসলাম রাজিব মতামত দিয়ে বলেন "আমরা প্রথমবারের মতো এই দিবসটি পালন করতে পেরে আমার রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি আলহামদুলিল্লাহ ওলামায়ে কেরাম খুব উচ্ছ্বসিত আগামিতে আরো চমৎকার ভাবে করবো । ইনশাআল্লাহ"
একটি মহিলা গ্রুপের লিডার এক আপু তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন "আলহামদুলিল্লাহ আমরা হাদিস পাঠ দিবস পালন করেছি আর এইবার কুরআন পাঠ দিবস পালন করলাম। আমরা আমাদের গ্রুপটা এভাবে সাজিয়েছিলাম ৫ জন আলোচনা করতে পারে এরকম দক্ষ্য ব্যক্তি বাকী ৫ জন একদমই সাধারণ যারা ভালো কোরআন পড়তে পারেনা বা জানলেও পড়ায় অভ্যস্ত না তাদেরকে সারাদিনব্যাপী এই কার্যক্রমে যুক্ত রেখে আমরা যেমন আনন্দিত তারাও স্বীকৃতি দিয়েছে তারা উপকৃত হয়েছে ভালো লেগেছে ভবিষ্যতে এরকম হলে অংশগ্রহণ করবে ইনশাআল্লাহ। অনেকের অর্থসহ কুরআন শরীফ ছিল না ব্যক্তিগতভাবে তারা আপনাদের পক্ষ থেকে এই হাদিয়া পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছে। আমাদের গ্রুপ লিডার আমাদেরকে কিছু গিফট দিয়েছে সেটাতে ও তাদের সাথে আমাদের আন্তরিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আমাদের এখানে আপনাদের শাখা খোলার জন্য প্রস্তুত। আল্লাহ কবুল করুন।"গোপালগঞ্জে একটি গ্রুপের লিডার আরাফাত আলম বলেন "এই আয়োজনটি আমার ও আমার গ্রুপের জন্য ঈদের আগেও যেন একটি ঈদ ছিলো। দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা এই মহান কাজটির ধারা অব্যাহত রাখুন। আমিন।"
এভাবেই একটি সুন্দর দিন হিসেবে দেশব্যাপী এই উদ্যোগ সারাদেশে যেন এক ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে তুলেছে।