নানা প্রতিবন্ধকতায় উল্লাপাড়া মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে চলে গেলো ঠিকাদার
আবু বকর সিদ্দিক বাবু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ হয়ে
গেছে। এই মডেল মসজিদ নির্মানের কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট এস এস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড। মসজিদ নির্মাণের
জন্য দুই বছর সময় বেধে দেওয়া হয়। সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী বরাবর এই প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মোঃ শাহীন বিভিন্ন
কারণ দেখিয়ে কাজ করবেন না মর্মে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তবে গণপূর্ত বিভাগ
বলছে, ঠিকাদারের ত্রুটি ও গাফিলতির কারণে ইতোমধ্যে উল্লিখিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ
বাতিল করা হয়েছে।
বগুড়া-পাবনা মহাসড়কে উল্লাপাড়া পৌর বাস টার্মিনালের পাশে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে উল্লাপাড়া
মডেল মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ধর্ম মন্ত্রনালয় এই মসজিদ
নির্মাণের জন্য ১১কোটি ৬৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮শ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগকে
নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মসজিদ ভবন নির্মাণের বেজ ঢালাই ও সবগুলো পিলার
নির্মাণসহ শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, ঢাকার ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট এস এস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেডকে মসজিদ নির্মাণের কার্যাদেশ দেবার পর
থেকে যথাসময়ে কাজ শুরু না করা এবং কাজ শুরুর পর নানা অনিয়ম ও গাফিলতির জন্য কাজটি পিছিয়ে
যায়। তাদেরকে এ বিষয়ে বার বার সর্তক করলেও তা আমলে নেয়নি এই প্রতিষ্ঠান। অবশেষে ২ মাস
আগে ঠিকাদার তাদের নানা সমস্যা ও আর্থিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে লিখিত ভাবে কাজ করায়
অপারগতা প্রকাশ করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠানের চিঠির প্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগ তাদের দেওয়া কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার
নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে এই মসজিদ ভবন নির্মাণের অবশিষ্ট কাজের জন্য
দরপত্র আহবান করা হবে।
এ বিষয়ে ফাস্ট এস এস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ঠিকাদার মোঃ শাহীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ২০১৯ সালে তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকরা তাদের টাকা বুঝে না পাওয়ায় তারা নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন। ফলে ২০২২ সালে কাজটি শুরু করেন। এতে ২ বছরে নির্মাণ সামগ্রীর দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এবং নামে বেনামি চাঁদা চেয়ে ফোনে হুমকি প্রদান এবং কিছু ব্যক্তির নিকট থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের চাপ দেওয়ায় তাদের কর্মকান্ড ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় এতে আর্থিকভাবে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারপরেও মডেল মসজিদের ৩০ শতাংশ কাজ তারা শেষ করে বিল প্রদানের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সে টাকা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা এই কাজ থেকে সরে আসেন এবং গণপূর্ত বিভাগকে কাজ করবেন না মর্মে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।