সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রাখা, ভবনে তালা ঝোলানো এবং শাটডাউন কর্মসূচির নেপথ্যে গুরুতর অনিয়ম ও পরিকল্পিত ইন্ধনের প্রমাণ পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, টানা ছয় দিন দাবি-দাওয়ার আড়ালে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে ‘কার্যত’ ব্যাহত করার মতো ষড়যন্ত্রমূলক সুসংগঠিত কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার দিকে এগোলেও একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলানো এবং পরীক্ষায় বাধা সৃষ্টির মতো ঘটনাকে মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক ইন্ধন ও বাইরের প্রভাবের ফল হিসেবে দেখছে। তদন্ত শেষে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থান ইতিবাচক এবং এই দাবি বাস্তবায়নের কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের নামে মাঠপর্যায়ে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, তা স্বতঃস্ফূর্ত নয়। প্রাথমিক তদন্তে এর পেছনে একটি শক্তিশালী মহলের সমন্বিত ইন্ধন ও প্রভাবের ইঙ্গিত মিলছে। সহকর্মীদের ওপর হামলা, পরীক্ষা ব্যাহত করা বা স্কুলে তালা ঝোলানোর মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বৈধ আচরণ হতে পারে না।
৩০ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে পরীক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানায়। সেদিন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিন দফা দাবিতে শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি ‘সরকারি চাকরি আইন’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’র পরিপন্থি।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু শিক্ষকের অতিউৎসাহী সিদ্ধান্তের ফলেই বার্ষিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক প্রশাসনিক তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে এর বাইরেও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নষ্ট করেছেন, তারাও শাস্তির মুখোমুখি হবেন।