বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালে আগামী ১৮ জুন থেকে মা-শিশু, অ্যাজমা ও হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে। একই দিনে হাসপাতালটিতে মা ও শিশুর জন্য দুটি নতুন ওয়ার্ড উদ্বোধন করা হবে। পর্যায়ক্রমে অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালুর মাধ্যমে আগামী এক বছরের মধ্যে হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার দুপুরে বগুড়া শহরের দত্তবাড়িতে অবস্থিত হাসপাতালের হলরুমে নবগঠিত পরিচালনা কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, “হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের মানুষ উন্নত ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা পাবেন। ডা. জোবাইদা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ১৮ জুন নতুন সেবাগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।”
হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল হক দেওয়ান সজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।
এ সময় পরিচালনা কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি আতিকুর রহমান বাদল, ডা. শাহ মো. শাজাহান আলী, ডা. আসফারুল হাবিব রোজ, ডা. ইউনুস আলীসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং শিশুস্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি অ্যাজমা ও হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল একসময় শিশু চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নানা কারণে পরবর্তী সময়ে এর কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের মাধ্যমে হাসপাতালটিকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ শিশু চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।