মো: আব্দুল হান্নান:
ফেসবুক বর্তমানে ইন্টারনেটের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম এবং বিশ্বের বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০০ কোটির বেশি।
ফেসবুক আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি সামাজিক যোগাযোগ, যোগাযোগ রক্ষা এবং তথ্য আদান-প্রদানের একটি প্রধান মাধ্যম। আমরা বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সাথে সংযুক্ত থাকার জন্য, বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করার জন্য এবং বিনোদন পাওয়ার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে থাকি। কোথাও দশ মিনিটের জন্য বসলেও সেখানে ওয়াইফাই খুঁজি। রাতের গভিরে ঘুম ভেঙে গেলে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক চালু করি, চালু করি ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানান মাধ্যম।
ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম হলেও বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনের মাধ্যম, কারণ এখানে ব্যবহারকারীরা ভিডিও, ছবি, গেম এবং বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট দেখতে ও শেয়ার করতে পারেন। বর্তমান যুগে ফেসবুকে বিনোদনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের জন্য আয়ের একটি বড় সুযোগ হিসেবে পরিণত হচ্ছে। ভিডিও কনটেন্ট, লাইভ স্ট্রিম, পেজ মনিটাইজেশন ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টায় অনেকেই নিজেদের সময় ব্যয় করছেন, বিনোদনের নামে অনেকেই ছড়াচ্ছেন অশ্লীলতা।
সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে মনিটাইজেশনের নেশায় যুবক-যুবতীরা তাদের ব্যক্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফেসবুকে অশ্লীল এবং বাজে অঙ্গভঙ্গির ভিডিও আপলোড করে দ্রুত ভাইরালের নেশায় মজেছে। রান্নাঘর থেকে শুরু করে বেড রুমের আড্ডা পর্যন্ত ফেসবুক হরহামেশাই শেয়ার করছেন। সমাজের নেতৃস্থানীয় লোকেরাও এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। সমাজে অন্যায় ও অপরাধ বিস্তারে নেতৃস্থানীয় মানুষদেরই বেশি দেখা যাচ্ছে।
তরুণদের পাশাপাশি মধ্যে বয়সি নারীরাও ফেসবুকে অশ্লীলতার প্রসার ঘটাচ্ছেন। ফেসবুকে আত্নীয়, অনাত্মীয়, পরিচিত, অপরিচিত সকলের সামনে মুসলিম নর-নারীরা কন্টেন্ট ভিডিওর নামে অশ্লীলতার প্রচার করে যাচ্ছেন। নিজ আত্নীয়রাও এমন গর্হিত কাজকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। স্বজনদের অশ্লীলতার মাধ্যমে উপার্জিত ইনকাম নিয়ে আত্নীয়রা গর্ব করছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের এপথে উৎসাহ করছে। কেউবা নিজেই সন্তানদের এপথে বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সন্তানেরা বিপথগামী হচ্ছে, বিপথগামী হচ্ছে যুবসমাজ, ধ্বংস হচ্ছে আগামী প্রজন্ম।
ইসলাম পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থ রুচি ও প্রকৃতির ধর্ম। ইসলামে সব রকম অশ্লীল, অশালীন, কদর্য, কুরুচিপূর্ণ, নির্লজ্জ কাজ ও কথা নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ পৃথিবীতে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য করার এবং পাপ পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামের নির্দেশ হলো ব্যক্তি নিজে পাপ করবে না, সক্ষমতা থাকলে অন্যকেও তা করতে দেবে না এবং পাপের প্রসার ঘটাবে না। কিন্তু কেউ যদি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজে পাপ কাজে লিপ্ত হয় এবং তার প্রসার ঘটায়, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৯)
অনেকে আছে ফেসবুক মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য, ভাইরাল হওয়ার জন্য কিংবা অর্থ উপার্জনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল ভিডিও প্রচার করে। এটি জঘন্য অপরাধ। এই পোস্ট, ভিডিও ইত্যাদি দ্বারা যত মানুষ গুনাহ করবে, সে তার একটি অংশ পেতে থাকবে।
জারির বিন আবদুল্লাহ বিন জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মন্দ প্রথার প্রচলন করল এবং লোকেরা তদনুযায়ী কাজ করল, তার জন্য তার নিজের পাপ তো আছেই, উপরন্তু যারা তদনুযায়ী কাজ করেছে, তাদের সমপরিমাণ পাপও সে পাবে, এতে তাদের পাপ থেকে মোটেও হ্রাস পাবে না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৩)।
অতএব কেউ কোনো অশ্লীল পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে যত মানুষ ওই পোস্ট দেখবে, সেখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে গুনাহে লিপ্ত হবে, নিজেদের মধ্যে শেয়ার করবে পোস্টদাতা তাদের সবার সমপরিমাণ গুনাহের ভাগীদার হবে। নাউজুবিল্লাহ মহান আল্লাহ সবাইকে এ ধরনের কাজ থেকে দূরে রাখুন।