এফ.এম রিপন আহম্মেদ : প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ফাল্গুন মাসের আজ প্রথম বুধবার বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় খাউড়া মেলা। এর আরেক নাম ছোট সন্ন্যাস মেলা। উপজেলার খোট্রাপাড়া ইউনিয়নের খাউড়াদহ (ব্রীজ সংলগ্ন) এলাকায় এক দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। খাউড়ার মেলাকে ঘিরে উপজেলার গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।
প্রতিবছরের মতো এবারও মেলার আশেপাশের এলাকায় প্রতিটি বাড়ি নাইওরিতে ভরে উঠেছে। মেলায় ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম আর শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে উপজেলার জালশুকা, চান্দাই, নারিল্যা, খোট্টাপাড়া, বলদিপালান, চাঁচাইতারাসহ আশ পাশের এলাকা।
মেলার প্রধান আকর্ষণ থাকে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ। বিশেষ করে বাঘাইড়, বোয়াল, কাতলা, রুই মাছ কিনতে অনেকেই সারা বছর অপেক্ষা করে মেলার এই দিনটির জন্য। মেলায় গিয়ে হরেক রকমের খেলনা, চুরি-ফিতা কেনার পাশাপাশি শিশুরা নাগরদোলায় দোল খাওয়ার সখ মিটিয়ে নেয়। বড়রা তাদের সংসারের ব্যবহার্য লোহার সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, হলুদ, পান খাওয়ার চুন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী কিনে থাকেন। সেই সাথে মেলায় ফাগুনের পাকা বড়ই, কেসুর, খিরা ইত্যাদিও বেচা-কেনা হয়।
এ বছর মেলায় সবচেয়ে বড়মাছ দেখা গেছে, ব্লাড কার্প,কাতলা,বোয়াল ও ব্রিগেড। ৫-৭ কেজি ওজনের মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। ১০-২০ কেজি ওজনের মাছ প্রতি কেজি ১০০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
বাবু মিয়াসহ অন্তত ১০ জন মাছ বিক্রেতা বলছেন, দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতি অনুযায়ী মাছের দাম তুলনামূলক কম।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, মাছের দাম অনেক বেশি।তবে মেলার আগের রাতে কয়েকটি মাছের আরদ ঘুরে দেখা গেছে, মাছের দাম অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে।
মেলার পরেরদিন বউমেলা ও কাঠের মেলা হয়ে থাকে।বউ মেলায় বেশি ভাগ মেয়েরা এসে তাদের বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে থাকেন। কাঠের মেলায় বাড়ির ফার্নিচার থেকে বসার চকি সকল জিনিস পাওয়া যায়।
প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। যার আরেক নাম বড় সৈন্ন্যাস মেলা। এর এক সপ্তাহ পরেই অনুষ্ঠিত হয় খাউড়া মেলা। মেলাটি এ এলাকার প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্য।
খোট্রাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক সংবাদ বুলেটিন জানান , ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলাটি প্রতিবছরের ন্যায় এবারো জমজমাট ভাবে শুরু হয়েছে। মেলায় মাছ-মাংস,দই-মিস্টিসহ হরেক রকম দ্রব্য সমাগ্রী কেনা বেচা চলছে। নাগরদোলাসহ শিশুদের বিনোদনমূলক ব্যবস্থা রয়েছে।
শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম সংবাদ বুলেটিনকে জানান ,জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতি সাপেক্ষে ঐতিহ্যবাহী মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।