উত্তরবঙ্গের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার নাম হতে পারে বগুড়া ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল)। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু জেলার নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও স্থানীয়রা।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সুবিধা, কৃষিভিত্তিক উৎপাদন, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়াকে ইপিজেড স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। এতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বেকার যুবকদের জন্য এটি আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বগুড়ায় ইপিজেড হলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, গার্মেন্টস, হালকা প্রকৌশল, খাদ্যশিল্প ও রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে ব্যাপক অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজধানীকেন্দ্রিক শিল্পায়নের পরিবর্তে উত্তরবঙ্গের মতো সম্ভাবনাময় অঞ্চলে বড় শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ভারসাম্য তৈরি হবে।
তারা আরও বলেন, বগুড়া ইতোমধ্যেই উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এখানে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা গেলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও দ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে বগুড়া ইপিজেড উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।