প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ৫, ২০২৬ | ৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বগুড়ায় দিনে ভাঙছে ৩২টি সংসার! আড়াই বছরে তালাক ৩০ হাজার ছাড়াল

👉বাল্যবিয়ের মাশুল, বাড়ছে তালাক
যৌতুক, নির্যাতন ও মাদকের ছোবলে ভাঙছে কিশোরীদের সংসার!
বয়স তখন মাত্র ১৩। খেলাধুলা আর পড়াশোনার বয়সেই সেবা (ছদ্মনাম)কে বিয়ে দেওয়া হয়। কুড়ি বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে বাধ্য হয়ে তালাকের আবেদন করতে হয়েছে। বগুড়া শহরে নানীর কাছে বেড়ে ওঠা সেবার বিয়ে হয় গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা গ্রামে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
এরই মধ্যে তার কোলজুড়ে আসে একটি কন্যাসন্তান। কিন্তু সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ির অমানবিক আচরণ সহ্য করতে না পেরে তিনি নানীর বাড়িতে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পর অবশেষে পরিবার তালাকের সিদ্ধান্ত নেয়।
একই রকম পরিণতি হয়েছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রাবেয়া (ছদ্মনাম)-এর। কিশোরী বয়সেই একই উপজেলার সজীবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে চলতে থাকে শারীরিক নির্যাতন। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথই বেছে নিতে হয়। গত ২৪ জুন ৮০ হাজার টাকা খোরপোশ দিয়ে রাবেয়াকে তালাক দেন তার স্বামী।
গাবতলী উপজেলার টুম্পা (ছদ্মনাম)-এর জীবনেও নেমে আসে একই পরিণতি। বাল্যবিয়ের শিকার টুম্পাকে গত ৩ জুলাই ৫০ হাজার টাকা খোরপোশ দিয়ে তালাক দেন তার স্বামী, বগুড়া সদর উপজেলার শিমুল। নামমাত্র খোরপোশ দিয়ে প্রতিনিয়তই অনেক কিশোরীর বৈবাহিক জীবনের করুণ সমাপ্তি ঘটছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইনের চোখ ফাঁকি দিতে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে কিংবা কাজী ছাড়া রেজিস্ট্রিবিহীনভাবে বিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। অপরিণত বয়সে বিয়ের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম্পত্য সম্পর্কে মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি স্বামীর মাদকাসক্তি, জুয়া, পরকীয়া এবং যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও তালাক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।
বগুড়ার শাজাহানপুরে বাল্যবিয়ে ও তালাক নিয়ে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি সংস্থার এক প্রোগ্রাম অফিসার জানান, উপজেলার একটি ইউনিয়নেই এক মাসে ৩১টি তালাক নিবন্ধিত হয়েছে। তার ভাষ্য, কিশোরী বয়সে বিয়ে এবং রেজিস্ট্রিবিহীন বিয়ের কারণে তালাকের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তালাকের সময় নারীরা ন্যায্য খোরপোশ থেকে বঞ্চিত হন। আবার কিছু তালাক মৌখিকভাবেও সম্পন্ন করা হয়, যা আইনগতভাবে জটিলতা সৃষ্টি করে।
নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি আইনজীবী সংস্থার প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট শারদী শবনম মিথুন বলেন, অপরিণত বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া তালাক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তার মতে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এ প্রবণতা বেশি। আইনের বিধিনিষেধ এড়াতে অনেকেই ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করছেন অথবা রেজিস্ট্রিবিহীন বিয়ে দিচ্ছেন। ফলে নারীরা পরবর্তীতে আইনি সুরক্ষা ও ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
সম্পাদক: নজরুল ইসলাম (মিলন) || প্রকাশক: মো: মনজুরুল ইসলাম (রিপন)
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।