বগুড়ার শিবগঞ্জে সরকারি রাজস্ব কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে পরিচালিত একটি বড় ধরনের অবৈধ সিগারেট কারখানার সন্ধান পেয়েছে সেনাবাহিনী। সোমবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল নয়টা পর্যন্ত চলা অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ব্যান্ডরোল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার খয়রাপুকুর এলাকায় শাহিনুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই নামহীন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নকলের মহোৎসব চলছিল। সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জানে আলম সাদিফ ও লেফটেন্যান্ট আল ফাহাদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, অনুমোদনহীন ১৪টি ব্র্যান্ডের মোড়কে কাঠের গুঁড়া মিশ্রিত তামাক ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট। কারখানাটি থেকে ১৫ লাখ টাকার নকল ব্যান্ডরোল, ১০ লাখ টাকার ভুয়া মোড়ক, ১০ মণ ভেজাল তামাক এবং সিগারেট তৈরির প্রায় ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।
অভিযানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক চিত্র। কারখানাটির রেজিস্ট্রার ও স্টক খাতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেখানে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোর্শেদা আলমের স্বাক্ষর রয়েছে। স্থানীয় ও শ্রমিকদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সায় থাকার কারণেই কেউ এই অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। তবে এই অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে বৈধতা দেওয়া হলো, সে বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা লিটন কুমার সেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
অভিযান চলাকালে কারখানার মালিক শাহিনুর রহমান পালিয়ে গেলেও পাঁচজন শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জব্দকৃত মালামাল আগামী বৃহস্পতিবার ধ্বংস ও বাজেয়াপ্ত করা করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এমন বড় মাপের জালিয়াতি চক্রের পেছনে আরও প্রভাবশালী মহলের হাত থাকতে পারে।