খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সাতটি আসনে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার ২০ হাজারের বেশি। অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার থাকায় কেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি বেশি হলে অনেক আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন তারা। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘরে ঘরে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, বগুড়ায় ১২টি উপজেলায় ১২টি পৌরসভা ও ১০৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে সংসদীয় সাতটি আসন আছে। স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৯৮৩টি, মোট ভোট কক্ষ পাঁচ হাজার ৪৭৮টি। মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ আট হাজার ৮৭১ জন ও নারী ১৫ লাখ এক হাজার ২৭ জন। নারী ভোটার বেশি আছে ২০ হাজার ১৫৬ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার আছেন ৪২ জন। সর্বশেষ ভোটার তালিকায় প্রায় এক লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনটি সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৬ হাজার ৬০৯ জন। পুরুষ এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৯ জন ও নারী এক লাখ ৮৯ হাজার ৭২০ জন। নারী ভোটার বেশি দুই হাজার ৮৩১ জন। এ ছাড়া হিজড়া ভোটার আছেন পাঁচ জন।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটি শুধু শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার তিন লাখ ৪২ হাজার ১৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন ও নারী এক লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন। এখানে পুরুষ ভোটার বেশি ৮৪৪ জন। এ ছাড়া হিজড়া ভোটার পাঁচ জন।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনটি আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৯ হাজার ১৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৬৯ হাজার ৩৪৭ জন ও নারী এক লাখ ৬৯ হাজার ৮২৩ জন। নারী ভোটার বেশি ৪৭৬ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন তিন জন।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনটি কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার তিন লাখ ৫৯ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৮ হাজার ৯৮৭ জন ও নারী এক লাখ ৮০ হাজার ৫৩০ জন। নারী ভোটার বেশি এক হাজার ৫৪৩ জন। এখানে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন আট জন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনটি শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৮১ হাজার ২৮৭ জন ও নারী দুই লাখ ৯১ হাজার ৪৭ জন। নারী ভোটার বেশি আছেন নয় হাজার ৭৬০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার আছে, ছয় জন।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার চার লাখ ৫৪ হাজার ৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন ও নারী দুই লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ জন। এই আসনে নারী ভোটার বেশি আট হাজার ৪৪১ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার আছেন ১০ জন।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনটি গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৭০ হাজার ৭০ জন ও নারী দুই লাখ ৬৮ হাজার ১৭ জন। এখানে নারী ভোটার বেশি রয়েছেন দুই হাজার ৫৩ জন। এ ছাড়া হিজড়া ভোটার আছেন পাঁচ জন।
বগুড়ার নুনগোলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘নারী ভোটাররা ভোট দিতে আগ্রহী। ভোটকেন্দ্রে যদি সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে নারীরা ভোট দিতে যাবেন। নারীদের ভোটেই অনেক কেন্দ্রে ফলাফল নির্ধারিত হবে।’
বগুড়ার সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) সাধারণ সম্পাদক কেজি ফারুক বলেন, ‘বগুড়ার সাতটি আসনে ২০ হাজারের বেশি নারী ভোটার আছেন। নারীরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারলে বেশি ভোট কাস্ট হবে। এতে অনেক আসনে ফলের সমীকরণ বদলে যাবে।’
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে সাতটি আসনে মোট ৯৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯০টি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবশিষ্ট সাধারণ কেন্দ্র। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনও করা হতে পারে। ভ্রাম্যমাণ টিমও থাকবে।’
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নির্বাচনি আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে বিচারিক আদালত কাজ করছে। কোথাও কোনও কিছু ঘটলে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
