
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ এখন সরগরম। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা, কর্মীসভা আর ভোটারদের মধ্যকার হিসাব-নিকাশে জনপদটি এখন উত্তপ্ত।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।
অন্যদিকে, এই আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে ঘিরেই মূল নির্বাচনী আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে। স্থানীয় বিশ্লেষকরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাকে এগিয়ে রাখছেন।
লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জানে আলম খোকা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও গত কয়েক বছরে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বড় দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭০৩ জন, পুরুষ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে উপজেলায় ৯৯টি ভোটকেন্দ্রে ৫৪৪টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ৯৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৭টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আচরণবিধি রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সক্রিয় রয়েছেন এবং কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এভাবেই অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বগুড়া-৫ আসনের প্রতিযোগিতা জাতীয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।