বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে এই দুই সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ১৬ সেপ্টেম্বরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠির বিষয় ছিল ‘স্পিকার কর্তৃক বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়ন’। চিঠিতে বলা হয়েছে, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬-এর ১৮(৩)(গ) ধারা অনুযায়ী স্পিকার দুই সংসদ সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগতির জন্য এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মনোনীত দুই সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিন্ডিকেট। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬-এ সিন্ডিকেটের গঠন, দায়িত্ব ও কার্যক্রমের বিষয়ে বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়ে সিন্ডিকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে জেলার দুই সংসদ সদস্যকে মনোনয়নের খবরে শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তিকে তাঁর নির্বাচনী এলাকার শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
এমপি মোশারফ হোসেন বলেন, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এটি শুধু আমার জন্য নয়, বগুড়ার মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, মানসম্মত ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব।
বগুড়ার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা এবং তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই। একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শুরুটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তাই শুরু থেকেই সুশাসন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বগুড়ার সন্তানরা যেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি নিজ জেলাতেও বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই প্রত্যাশা পূরণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।