
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এই জনপদের রাজনীতিতে পরিচিত ও অভিজ্ঞ দুই নেতার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে লড়াইয়ের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। একদিকে চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, অন্যদিকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সাবেক পৌর মেয়র জানে আলম খোকা। এই দুই নেতার দ্বৈরথ আসনটিতে একটি জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আসনের রাজনীতিতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তিনি ইতিপূর্বে বগুড়া-৫ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ের সুসংগঠিত অবস্থান তাঁকে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী জানে আলম খোকাও ভোটের রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত নেতা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ে পরাজিত হলেও, গত কয়েক বছরে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। তবে বহিষ্কারাদেশের পরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেন। বর্তমানে দলে পুনর্বহাল না হওয়ায় এবারের সংসদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র হিসেবেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং জানে আলম খোকার ব্যক্তি ইমেজের লড়াই এই আসনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপির ভোট ব্যাংক এবং খোকার নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগাভাগি হলে নির্বাচনের ফলাফল যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখন একটাই আলোচনা—অভিজ্ঞতার জয় হবে নাকি জনপ্রিয়তার নতুন কোনো রেকর্ড সৃষ্টি হবে? শেষ পর্যন্ত এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে কে হাসবেন শেষ হাসি, তা দেখতে এখন মুখিয়ে আছে শেরপুর-ধুনটবাসী।