
প্রবল স্রোত আর সাগরের উত্তাল ঢেউ—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাকে। শারীরিক সক্ষমতা আর মানসিক শক্তির অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত ১৬.১ কিলোমিটার সমুদ্রপথ সাঁতরে পাড়ি দিলেন বগুড়ার আদমদীঘির কৃতি সন্তান জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।
গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’-এর ২০তম আয়োজনে ৩৫ জন সাঁতারুর সাথে অংশ নিয়ে জাহিদ এই গৌরবময় কৃতিত্ব অর্জন করেন।
আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর ইউপির হলুদঘর গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেন খোকার ছেলে জাহিদ পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। স্ত্রী ও এক কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করলেও তার হৃদয়ে সবসময়ই ছিল সুস্থ জীবনধারা ও রোমাঞ্চের নেশা। মূলত মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চা ও সাঁতারে উদ্বুদ্ধ করতেই তিনি এই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
সাঁতার শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জাহিদ বলেন:
“সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন মানসিক শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ যদি মানসিকভাবে দৃঢ় থাকে, তবে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। আমি চাই মানুষ মাদক ও অসুস্থ জীবনধারা ছেড়ে খেলাধুলা আর শরীরচর্চায় মনোযোগী হোক।”
জাহিদুল ইসলামের এটিই প্রথম বড় অর্জন নয়। এর আগে তিনি:
সুনামগঞ্জে ১০০ কিলোমিটার ‘আল্ট্রা রান’ সম্পন্ন করেছেন।
কাপ্তাই লেকের শুভলং চ্যানেলে ১৪ কিলোমিটার সাঁতার কেটেছেন।
কুতুবদিয়া চ্যানেলে ৭ কিলোমিটার এবং পদ্মা নদীতে ৭ কিলোমিটার সাঁতার প্রতিযোগিতায় সফল হয়েছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ১০০টি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন।
একজন অপেশাদার ক্রীড়াবিদ হয়েও সমুদ্রজয়ের এই সাফল্যে গর্বিত আদমদীঘিবাসী। সান্তাহার শহীদ আহসানুল ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এই কৃতিত্বকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “পেশাদার অ্যাথলেট না হয়েও জাহিদ যা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি আমাদের আদমদীঘির গর্ব।”
পরিবেশ রক্ষা এবং সুস্থ দেহ-মন গঠনের লক্ষ্য নিয়ে জাহিদের এই যাত্রা আগামী প্রজন্মের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।