মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা: মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নে এক মৎস্যজীবীর বৈধ ঘের জবরদখল ও বিপুল পরিমাণ মাছ ও কাঁকড়া লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ০৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ভুক্তভোগী আলামিন শেখ (৪০) বাদী হয়ে মোংলা থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোংলা থানাধীন সোনাইলতলা গ্রামের মৃত রুস্তম আলী শেখের পুত্র আলামিন শেখ (৪০) দীর্ঘ বছর ধরে সোনাইলতলা মৌজায় ২ বিঘা ০৫ কাঠা জমি চুক্তিনামায় নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় প্রভাবশালী জামায়াত নেতা সরদার আবু সাইদ (৫৩) এবং তার সহযোগীরা ক্ষমতার দাপটে গায়ের জোরে ওই মৎস্য ঘেরের ভেড়ি কেটে পাশের ঘেরের সাথে মিশিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী আলামিনের দাবি, ওই সময়ে তার ঘেরে চাষ করা বিপুল পরিমাণ মাছ ও কাঁকড়া জোরপূর্বক লুট করা হয়। যার বর্তমান বাজারমূল্য ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা।
আলামিন শেখ অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ-বৈঠকের চেষ্টা করলেও বিবাদী প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তিনি কোনো বিচার পাননি। এমনকি দীর্ঘ সময় তাকে তার নিজের ঘেরের ধারেকাছেও ভিড়তে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে দেশে আইনের শাসন ফিরে আসায় তিনি তার দখলকৃত ঘের ফেরত এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় মো. নাজমুল সরদার, আবু হানিফ শেখ ও মো. সেলিম শেখসহ একাধিক ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে রয়েছে।
এ বিষয়ে বিবাদী সরদার আবু সাইদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমার ঘেরা আমি কেটেছি। আলামিন শেখের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে মোংলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র গাইন অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।