বগুড়ায় বিমান বন্দরের পাশাপাশি ফ্লাইং একাডেমি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ডিসেম্বর মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ১৪টি বোয়িংয়ের জন্য সাইন করেছি। আমাদের বিমান বহরটি একদম আন্তর্জাতিক মানের হলেও, আন্তর্জাতিক বিমান আছে ঠিকই কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের নয়। সেই মান সম্পন্ন করার জন্য আমরা ইতিমধ্যেই ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের স্বাক্ষর করেছি এবং আরও কিছু বিমান আমরা লিজ করব।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একাডেমির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সাত তারিখে যাচ্ছি সেখানে, একাডেমিটা খুব তাড়াতাড়ি হবে। শুধু এখানেই নয়, নীলফামারীতেও একটা একাডেমি আছে, ছোট একাডেমি। সেখানেও আমরা চেষ্টা করবো।
তিনি বলেন, একটা পাইলট বানাতে অনেক টাকা লাগে। এই পাইলটরা বাংলাদেশে খুব বেশি কাজ করে না, তারা বিদেশে চলে যায় এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে চাকরি করে। আগে পাইলটের একটা অংশ ছিল শুধু পাইলটের ছেলে বা পাইলটের আত্মীয়-স্বজন। এখন আমরা চাচ্ছি যে সাধারণভাবে সবাই যাতে এই এভিয়েশন সেক্টরে আসতে পারে, পাইলট হতে পারে। তারা শুধু বিমানে নয়, বিদেশে গিয়েও চাকরি করতে পারে। এই এয়ারলাইন্সগুলোতে চাকরি করলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে অনেক বেশি। সেজন্য আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে আমরা একাডেমি দুইটা করছি।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্থাপনাকে সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে মনপুরা স্পট হিসেবে ভালো সে কথা ডিসিরা বলেছেন। সেটাও দেখা হচ্ছে।
সরকার যেভাবে দেশ গড়তে চায় সে বিষয় ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুরের এয়ারপোর্ট উন্নত করার কথা হয়েছে। বগুড়ায় এয়ারপোর্ট ও একাডেমি স্থাপনের কথা রয়েছে। কক্সবাজারে থার্ড টার্মিনাল হবে। মন্ত্রণালয় কী কী কাজ করছে, সেগুলো ডিসিদের জানানো হয়েছে। আগের মতো নয়, গণতান্ত্রিক সরকার যেভাবে দেশ গড়তে চায় সে বিষয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আর অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো আমরা নতুন করে রিপেয়ার করে এটাকে চালু করব অভ্যন্তরীণ রুট হিসেবে।
এছাড়াও চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।