মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম রিপন:
সদ্য ঘোষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে—এ নিয়ে জেলায় চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।
কে হচ্ছেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক, তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতার নাম সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় এসেছে। বগুড়া বিএনপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় দলটির নীতিনির্ধারকদের কাছেও বিষয়টি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে যিনি প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
এদিকে বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরুকে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
আলোচনায় রয়েছেন বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে রাজনৈতিক মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এছাড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আজিজুল হক কলেজের সাবেক ভিপি কে. এম. খায়রুল বাশারের নামও আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার পক্ষেও মত দিচ্ছেন অনেক নেতাকর্মী।
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে নিয়েও চলছে আলোচনা।
সম্ভাব্য প্রশাসকের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চাঁন এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল।
এদিকে সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা, সৎ, দক্ষ ও জনবান্ধব একজন ব্যক্তিকেই প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। নগরীর নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ দিকে গত ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়ার পর চলতি সপ্তাহেই বা আগামী মঙ্গলবার নাগাদ প্রশাসক নিয়োগের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রশাসক পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।