মুহাম্মদ জাবেদ হোসাইন বিপ্লব
ফুটবল বিশ্বে কিছু নাম আছে যারা শুধু খেলোয়াড় নন, বরং একেকটি দলের ‘প্রাণভোমরা’। আর্জেন্টিনায় লিওনেল মেসি, পর্তুগালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে—বিধাতা যেন এঁদের সৃষ্টিই করেছেন একাই একটি দলকে কাঁধে নিয়ে চলার জন্য। আর আজ, লাল-সবুজের গ্যালারি সাক্ষী হলো—বাংলাদেশের ফুটবলেও এমন একজন নেতার জন্ম হয়েছে, যার নাম হামজা দেওয়ান চৌধুরী।
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল নাটকীয়তায় ভরা। একদিকে হামজা চৌধুরীর বিশ্বমানের নেতৃত্ব, অন্যদিকে গোলপোস্টের নিচে গোলকিপার মিতুল মারমার একের পর এক অমার্জনীয় ভুল। পুরো ম্যাচে মিতুল মারমা যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। গ্রিপিংয়ে দুর্বলতা, ভুল পজিশনিং এবং বারবার প্রতিপক্ষের পায়ে বল তুলে দিয়ে তিনি দলের বিপদ ডেকে এনেছেন বারবার।
সাধারণত গোলকিপারের এমন নড়বড়ে দিনে যেকোনো দলই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ত। কিন্তু আজকের গল্পটা ভিন্ন। কারণ, বাংলাদেশের রক্ষণ আর মাঝমাঠের সংযোগস্থলে ছিলেন ‘লেস্টার সিটি’ তারকা হামজা চৌধুরী। মিতুলের ভুলের মাশুল যখনই দলকে গুনতে হবে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন হামজা। কখনো নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন স্লাইড ট্যাকলে, আবার কখনো মিতুলের হাত ফসকে যাওয়া বল ক্লিয়ার করেছেন ঠান্ডা মাথায়।
মাঠে হামজার উপস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছে, একজন প্রকৃত লিডার কীভাবে সতীর্থদের ভুলগুলো ঢেকে দেন। তিনি শুধু রক্ষণ সামলাননি, বল পায়ে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করে পুরো দলকে একাই টেনে নিয়ে গেছেন। গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শক আজ একবাক্যে স্বীকার করেছেন—মেসি বা এমবাপ্পেরা যেমন দলের জয়ে একক প্রভাব রাখেন, হামজা চৌধুরীও আজ বাংলাদেশের জন্য ঠিক সেই ভূমিকা পালন করেছেন।
ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের মতে, গোলকিপার মিতুল মারমার আজকের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক এবং এটি কোচিং প্যানেলের জন্য ভাবনার বিষয়। কিন্তু দিনশেষে স্বস্তির নাম হামজা। তিনি প্রমাণ করলেন, সতীর্থদের শত ভুলের ভিড়েও তিনি একাই দুর্গ হয়ে দাঁড়াতে জানেন।
বাংলাদেশের ফুটবল পাগল মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ছিল একজন সত্যিকারের ‘আইকন’ বা নেতার। হামজা চৌধুরী আজ সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিলেন। মিতুলের ভুলে ভরা দিনে হামজার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স বহুদিন মনে রাখবে বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা।