মো: হাছিব সরদার, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা: মোংলায় নানাবিধ অপকর্মে বাঁধা দেয়ায় দুই যুবদল কর্মীকে মেরে রক্তাক্ত জখম করেছে বিএনপি নেতা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাঁশতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদেরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ও তার পরিবার জানান, উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়ার শেখ (৪০) বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় চিংড়ি ঘের দখল, সংখ্যালঘুদের মারধরসহ চাঁদাবাজি করে আসছে। আর তার এ সকল অপকর্মে বিভিন্ন সময়ে বাঁধা দিয়ে আসছে একই ওয়ার্ডের যুবদল কর্মী মামুন ফকির (৩৮)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে থাকে জিয়ার শেখ। পূর্বের সেই রেশ ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঁশতলা বাজারে মামুনের উপর অতর্কিত হামলা চালায় জিয়ার শেখ। জিয়ার শেখ লাঠি (ক্রিকেটের স্টাম্প) দিয়ে পিটিয়ে মামুনের বাম হাত ভেঙ্গে দেয়। এছাড়া লাঠির আঘাতে মামুনের মাথা ও কান ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় খবর পেয়ে মামুনের ভাই আলী ফকির (২৭) ছাড়াতে গেলে তাকেও মেরে রক্তাক্ত জখম করে জিয়ার শেখ। পরে স্থানীয়রা মামুন ও আলীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মামুন ফকির বলেন, জিয়ার শেখ দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় নানাবিধ অপকর্ম করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে আমি তাতে বাঁধা দিই। এতে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে থাকে জিয়ার। সেই জেরে আজ অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার ভাইকে মেরে আহত করেছে সে। এ ঘটনায় আমার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামুন আরো বলেন, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানাচ্ছি স্থানীয় সিনিয়র বিএনপি নেতাদের কাছে। সেই সাথে আইনি সুবিচার কামনা করছি।
এ বিষয়ে জিয়ার শেখ বলেন, মারামারি হয়নি, ঠেলাঠেলি হয়েছে, তাতে আমিও আহত হয়েছি। আর মারামারী আমার সাথে না, অন্যদের সাথে, আমি ঠেকাতে গিয়ে বরং আহত হয়েছি।
মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।