
রাজধানী দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া তুলকালাম কাণ্ড, গণ-গ্রেপ্তারি আর ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র মেঘ কাটতে না কাটতেই এবার সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার দ্বিগুণ করল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)। এক বছরের শান্তি বজায় রাখার মুচলেকায় আদালত থেকে ছাড়া পেয়েই রোববার দুপুর দুইটায় সাংবাদিক সম্মেলনে একেবারে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন দলটির দুই শীর্ষ মুখ সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের সোজা কথা, ‘আমাদের আটক করা হয়নি, বিমান থেকে সরাসরি অপহরণ করা হয়েছিল! আর এই লড়াই কেবল শুরু, মোদী সরকারের শেষের সময় ঘনিয়ে এসেছে’।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল এখন পুরো দেশ। সৌরভ ও আশুতোষের অভিযোগ, একজন নির্বাচন কমিশনারকে বাঁচাতে পুরো শহরকে যুদ্ধে পরিণত করা হয়েছে। আশুতোষ রাঙ্কা কড়া সুরে বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় দেশে যা ঘটেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত। নরেন্দ্র মোদী প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি যে কোনো মূল্যে জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করবেন। আসলে মোদী গত ৭২ ঘণ্টায় জরুরি অবস্থার নির্মমতাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে, সিজিপি প্রধান অভিজিৎ ডিপকে সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ভারতের জন্য লজ্জাজনক বলে তোপ দেগেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে দিল্লি পুলিশের চরম অমানবিকতার বেশ কিছু বিস্ফোরক দাবিও সামনে আনেন নেতারা। আশুতোষের অভিযোগ, তাদের তিনজনকেই আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছিল এবং আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বিমান থেকে নামার পরই তাদের ফোন কেড়ে নেয়া হয় এবং তাতে কোনো ভুয়া তথ্য বা তথ্যপ্রমাণ প্ল্যান্ট করার চেষ্টা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। সবচেয়ে মর্মান্তিক অভিযোগ তোলা হয় অভিজিৎ দীপকের ক্ষেত্রে, তাঁর ঠাকুমার প্রয়াণের খবর যখন পুলিশ তাকে দেয়, তখন নাকি নাটক তৈরি করার জন্য ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন চালু রাখা হয়েছিল!

শুধু দিল্লিই নয়, গোয়েন্দা নজরদারির অভিযোগ তুলেছেন সিজিপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং-ও। তিনি জানান, বেঙ্গালুরুতে পা দেয়া মাত্রই তাঁর ওপর নজরদারি শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এছাড়াও, ঐতিহাসিক গুরুদ্বারা বাংলা সাহিবের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে শিখ আবেগে আঘাত দেয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ডানপন্থী গোষ্ঠীর হামলার তীব্র নিন্দা করেন সিজিপি নেতারা। তাদের দাবি, কেন্দ্র সরকার এখন নিজের দেশের নাগরিক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেন এক 'যুদ্ধ' ঘোষণা করেছে।
এদিকে রাজপথের এই লড়াইয়ের মাশুল গড়াতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট ও সংসদের আঙিনায়। দিল্লি পুলিশ ইতোমধ্যে ২০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করলেও, বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’ মোদী সরকারের এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলন দিল্লির সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছাচ্ছ মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্ক এবং লখনউয়ের রাজপথে। আদালতের শর্ত যা-ই থাক, সিজিপি নেতাদের স্পষ্ট হুঙ্কার, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ১৩ কোটি ভোটারের আত্মসাৎ হওয়া অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত দেশের প্রতিটি কোণায় এই আগুন জ্বলতেই থাকবে!