রমজানে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বেরোবির মাঠগুলো
বেরোবি প্রতিনিধি:
রমজানের প্রতিদিন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি) মাঠগুলো।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম ও ত্যাগের মাস।এই দিনগুলোতে অন্যতম একটি সময় হলো নিজ পরিবারের সাথে ইফতারি করা।নিজ পরিবার থেকে আজ দুরে থাকায় সবাই বন্ধুবান্ধব মিলে একসাথে ইফতার করা।
সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্য যখন পশ্চিম কোণে ঢোলে পড়ে তখনিই যেন ছোট ছোট দলে মাঠজুড়ে বৃত্তাকার হয়ে ইফতারের অপেক্ষায় বসে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ।বেরোবির সবুজ ক্যাম্পাস যেন উৎসব মুখোর হয়ে উঠে রমজানের প্রতিটি দিন।
শুধু যে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়াশোনা করছে তারা নয়, এছাড়াও বাদ যায়না সাবেক শিক্ষাথীরাও। ৭৫ একরের প্রিয় ক্যাম্পাসের ভালোবাসায় ফিরে আসেন শিকড়ের টানে নিজ প্রিয়জনদের নিয়ে।
এছাড়াও শিক্ষকরা তাদের শিক্ষাথীদের সাথে উপভোগ করেন এই আনন্দঘন সময়গুলো।বড় বড় বৃও করে বসেন যেন সবাই একই বৃওের সকল মানুষ।
শুধু যে বন্ধুদের ইফতার থাকে তা কিন্তু না বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন,রাজনৈতিক সংগঠন,পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকেও ইফতারির আয়োজন করা হয়।এসব সংগঠন থেকে দুস্থও অসহায় মানুষদেরকেও ইফতারি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মাঠ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা স্মারক মাঠ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল মাঠ, ভিসি মাঠ, ক্যাফেটেরিয়া ও হলগুলো সবি যেন ভরে যায় শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখোর ইফতারির অমেজে।চারপাশের পরিবেশটা যেন সুবাসিত হয় নানান বাহারের ইফতারের স্বাদে।
পলিথিন কিংবা খবরের কাগজ বিছিয়ে পেয়াজু, ছোলা,আলুর চপ, বেগুনের চপ, বুনদিয়া,জিলাপি, তরমুজ, আপেল, কলা, আরও থাকে বিভিন্ন ধরনের শরবত সহ নানান পদ।
সবাই হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে কেউ পানি গ্লাসে ঢালে কেউ আবার পেয়াজু ভেঙে গুড়া করে দেয় আবার কেউ শরবত দিতে ব্যাস্ত।
বড় আয়োজন হলে তো কথাই নেই। তখন কেউ কেউ তেহারি, বিরিয়ানি বা খিচুরির ব্যবস্থা করেন।
এভাবেই সবাই মিলে তৈরি হয় অনন্দঘোন পরিবেশ। দেখে মনে হয় যেন শিক্ষার্থীরা নিজ পরিবার ফিরে পেয়েছে প্রিয় এই ক্যাম্পাসে। প্রতিদিনের ইফতারি শিক্ষাথীদের মাঝে যোগ করেছে ভিন্ন এক মাএা।যা সারা দিনের রোজাকে ভালোবাসায় সিক্ত করে।
নিজ পরিবার ছেড়ে বন্ধুবান্ধবদের সাথে ইফতার করতে কেমন লাগছে জানতে চাইলে,
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নবীন শিক্ষাথী আফিয়া জামান বলেন,
প্রায় ৩৫০ কিলো দূরে পরিবার। এখানে একা ইফতার করতে কষ্ট হচ্ছিল। ক্যাম্পাসে সবার সাথে ইফতার করতে ভালো লাগেছে। মনে হয়েছে বাড়িতে ইফতার করছি।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাথী দোলা আক্তার মিলা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এইটা আমার প্রথম ইফতার এ ভাবে আগে কখনও স্কুল কলেজে ইফতার করা হয়নি। বন্ধুবান্ধব মিলে এরকম একটা ইফতারের আয়োজনে অংশ নিতে পারায় আমি খুবই আনন্দিত। এতে করে নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও মধুর হয়ে উঠবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষাথী জারিফ হোসেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, পরিবার ছাড়া এখানে রমজান কষ্টের হলেও দিনশেষে বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসে একসাথে ইফতার করলে সেই কষ্টটা একটু হলেও কম লাগে। এবং প্রশান্তি কাজ করে।