কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সেখানে উপস্থিত মানুষ দেখলেন—ভালোবাসার মানুষকে হারানোর আতঙ্কে কাঁদছে দুই তরুণ-তরুণী, একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শেষবারের মতো বাঁচিয়ে রাখতে চাইছে তাদের সম্পর্ক।
রৌমারী উপজেলার পদ্মার চর গ্রামের মোঃ কবির হোসাইন (১৯) ও বাওয়াইর গ্রামের মোছাঃ জুঁই আক্তার (১৬)-এর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। কিন্তু সালিশ বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক আবেগঘন মানবিক ঘটনায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন কবির ও জুঁই। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন—“আমাদের আলাদা করবেন না, আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই।”
সেই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তৈরি হয় ভারী আবহ। উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ চোখ মুছেছেন নীরবে, কেউবা প্রশ্ন তুলেছেন—ভালোবাসার সম্পর্ক কি শুধুই সামাজিক নিয়মের কাছে পরাজিত হওয়ার জন্য?
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই তরুণ-তরুণীর সম্পর্কের বিষয়টি পরিবার আগে থেকেই জানত। তবে বয়স, পারিবারিক মতপার্থক্য ও সামাজিক চাপের কারণে সম্পর্কটি মেনে নিতে রাজি হয়নি উভয় পরিবার। পরে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের আলাদা করেই বাড়ি পাঠানো হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, বর্তমান সমাজে তরুণদের আবেগ ও ব্যক্তিগত অনুভূতির মূল্যায়ন এখনো যথেষ্ট নয়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বয়স ও সামাজিক বাস্তবতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রৌমারীর সেই ইউনিয়ন পরিষদ যেন সাক্ষী হয়ে রইল দুইটি অশ্রুসিক্ত চোখের, দুইটি কাঁপা কণ্ঠের, আর এক অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্পের।
যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ কাউকে ছাড়তে চায়নি—কারণ হয়তো সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো সহজে বিদায় বলতে শেখে না।