বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেতে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বকশিশ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বেডের ব্যবস্থা, ইসিজি রিপোর্ট, স্ট্রেচার ব্যবহার, এমনকি মৃত্যুর পর মরদেহ ছাড় করতেও টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক রোগীর স্বজন। তাদের দাবি, হাসপাতালের কিছু অসাধু ওয়ার্ডবয় ও কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মতো এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
এমনই অভিযোগ করেছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার লালদহ গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত মোবারক আলীর স্বজনরা। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত মোবারক আলীকে গত ২৪ জুন শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মোবারক আলীর মেয়ে মুন্জু বেগম ও নাতি হামদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার পর বেড খালি না থাকায় তাকে তৃতীয় তলার মেঝেতে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর তরিকুল নামে এক ওয়ার্ডবয় ১০০ টাকা বকশিশ দিলে বেডের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেন। টাকা দেওয়ার পরই বেড পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তারা।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শে ইসিজি পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও রিপোর্ট দ্রুত পেতে বকশিশ চাওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় সেদিন রিপোর্ট হাতে পাননি তারা।
তাদের ভাষ্য, একপর্যায়ে মোবারক আলীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে অক্সিজেন সংযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ডবয়কে দীর্ঘ সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাকে পাওয়া গেলে পুনরায় অক্সিজেন দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মোবারক আলীর মৃত্যুর পরও হয়রানি থামেনি। মরদেহ হাসপাতাল থেকে নেওয়ার সময় এক ওয়ার্ডবয় ৪৫০ টাকা দাবি করেন। পরে ইসিজির রসিদ চাইলে ওই টাকা না নিয়ে ১০০ টাকা নিয়েই চলে যান বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
শুধু মোবারক আলীর পরিবার নয়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্তত ১০ জন রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, স্ট্রেচার ব্যবহারেও কোনো রসিদ ছাড়াই ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও অনেক সময় দ্রুত সাড়া মেলে না। বকশিশ না দিলে দুর্ব্যবহারও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে, শজিমেক হাসপাতালে বকশিশকে কেন্দ্র করে এর আগেও আলোচিত একটি ঘটনা ঘটেছিল। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারী গ্রামের বিকাশ (১৮) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার স্বজনদের অভিযোগ ছিল, ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করে ১৫০ টাকা পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অস্থায়ী কর্মচারী আসাদুল ইসলাম মীর ধলু রোগীর মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেন। পরে বিকাশ মারা যান। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা করলে অভিযুক্ত ধলু গ্রেপ্তার হন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মঞ্জুর-এ-মুর্শেদ বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ জানানোর জন্য ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে। রোগীর স্বজনরা লিখিত বা ফোনে অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ধরনের অভিযোগ এখন পর্যন্ত তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি বলে তিনি জানান।