মো. আব্দুল হান্নান:
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কুরবানির পশুর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা বাধ্যতামূলক। নিচে প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো।
১. পশুর বয়স ও দাঁত (মুছিন্নাহ)
কুরবানির পশুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তার বয়স। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, "তোমরা 'মুছিন্নাহ' (দাঁতালো পশু) ছাড়া যবেহ করো না। তবে তা যদি তোমাদের জন্য কষ্টকর হয়, তাহলে জাযা'আহ (ছয় মাসের ভেড়া/দুম্বা) যবেহ করতে পারো" (ছহীহ মুসলিম)।
*বয়স নিম্নরূপ হতে হবে:
গরু/মহিষ: ন্যূনতম ২ বছর পূর্ণ হতে হবে এবং ৩ বছরে পদার্পণ করতে হবে (সাধারণত নিচে দুটি স্থায়ী দাঁত ওঠে)।
ছাগল/ভেড়া/দুম্বা: ন্যূনতম ১ বছর পূর্ণ হতে হবে এবং ২ বছরে পদার্পণ করতে হবে।
উট: ন্যূনতম ৫ বছর পূর্ণ হতে হবে এবং ৬ বছরে পদার্পণ করতে হবে।
বিশেষ ছাড়: যদি ১ বছর বয়সী ছাগল বা ২ বছর বয়সী গরু মেলা দুষ্কর বা সাধ্যের বাইরে হয়, তবে হূষ্টপুষ্ট ও দেখতে এক বছর বয়সীর মতো মনে হলে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী ভেড়া বা দুম্বা কুরবানি করা জায়েয (তবে ছাগলের ক্ষেত্রে ১ বছর পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক)।
২. নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত হওয়া।
কুরবানির পশু অবশ্যই বড় ধরনের শারীরিক ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে। হাদীছের আলোকে প্রধান ৪টি ত্রুটি থাকলে সেই পশু দিয়ে কুরবানি আদায় হবে না।
স্পষ্ট অন্ধত্ব: যে পশুর এক বা উভয় চোখ অন্ধ।
স্পষ্ট রোগাক্রান্ত: মারাত্মক অসুস্থ পশু, যার মাংস খাওয়ার অযোগ্য বা অত্যন্ত দুর্বল।
স্পষ্ট খোঁড়ামী: যে পশুটি তিন পায়ে হাঁটে, চার নম্বর পা মাটিতে রাখতে পারে না বা যবেহ করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না।
অতিশয় জীর্ণশীর্ণ: এমন হাড্ডিসার পশু যার হাড়ে কোনো মজ্জা বা চর্বি নেই।
৩. কুরবানীর পশুর শিং বা কানের ত্রুটির ক্ষেত্রে শরিয়তের মূলনীতি হলো-
আংশিক ভাঙ্গা: পশুর শিংয়ের আগা সামান্য ভেঙ্গে গেলে বা চামড়ার অংশ নষ্ট হলে কুরবানী জায়েজ হয়।
মুল থেকে ভাঙ্গা: শিং যদি একেবারে মূল বা গোঁড়া থেকে উপড়ে যায় এবং ক্ষতস্থান যদি তাজা থাকে (সুস্থ না হয়), তবে তা কুরবানীর জন্য বাধা সৃষ্টি করে।
জন্মগত ত্রুটি: জন্মগতভাবেই যদি পশুর কোনো শিং না থাকে, তবে তা কুরবানী করা জায়েজ। তবে শিংওয়ালা পশু কুরবানী করা বেশি উত্তম।
৪. অন্যান্য বৈশিষ্ট্য
লিঙ্গ: কুরবানির পশু নর (বলদ/খাসী) বা মাদী (গাভী/ছাগী) উভয়ই হতে পারে। তবে পশুটি যেন বন্ধ্যা বা গর্ভবতী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উত্তম। বন্ধ্যা পশু দিয়ে কুরবানি জায়েয।
খাসী বা খাসীকৃত পশু: খাসীকৃত (Castrated) পশু দিয়ে কুরবানি করা উত্তম, কারণ এর মাংস সুস্বাদু ও হূষ্টপুষ্ট হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দুটি শিংওয়ালা খাসীকৃত সাদা-কালো মেষ কুরবানি করেছিলেন (আবু দাউদ)।
পশুটি দেখতে সুন্দর, মোটাতাজা এবং স্বাস্থ্যবান হওয়া মুস্তাহাব। কারণ আল্লাহর উদ্দেশ্যে সর্বোত্তম জিনিস উৎসর্গ করাই ইসলামের শিক্ষা। কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। তাই লোকদেখানো বা অহংকার পরিহার করে সম্পূর্ণ হালাল উপার্জনে কেনা ত্রুটিমুক্ত পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করাই কুরবানির প্রধান শর্ত।